ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Hindusim

Post Top Ad

স্বাগতম

04 November, 2026

জল তত্ত্ব

04 November 0

জল তত্ত্ব
পঞ্চমহাভূতের দ্বিতীয় মহাভূত জল বৈদিক বাঙ্ময়ের মধ্যে একে প্রায়শঃ "আপঃ" নামে সম্বোধন করা হয়েছে। ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন তথা উপনিষদের মধ্যে "আপঃ" শব্দেরই ব্যবহার হয়েছে। য়োগদর্শনের ৩.৪৪ সূত্রের মহর্ষি ব্যাস ভাষ্যের মধ্যে "জলম্" পদের ব্যবহার হয়েছে। এখন সর্বপ্রথমে আমি "আপঃ" কিংবা জলের বিষয়ে ঋষিদের মতকে উদ্ধৃত করবো -


১. অগ্নিঃ পূর্বরূপম্। আদিত্য উত্তররূপম্। আপঃ সন্ধিঃ। বৈদ্যুতঃ (অগ্নিঃ) সন্ধানম্ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৭.৩.২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৩.৩)
২. অগ্নে পিত্তমপামসি (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৪.৬.১.২)
৩. অগ্নেরাপঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৮.২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২.১.১)
৪. আপো বৈ সর্বা দেবতাঃ (কাঠক সংহিতা ২৫.৩, ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.১৬; কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১১.৪; তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.২.৪.৩)
৫. আপো বৈ সর্বে কামাঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১০.৫.৪.১৫), আপোऽন্নম্ (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৬.৩০)
৬. আপো ऽসি জন্মনা বশা, সা য়জ্ঞম্ গর্ভমধত্থাঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.১৩.১৫)
৭. আপো হ বাऽইদমগ্রে সলিলমেবাস (শতপথ ব্রাহ্মণ ১১.১.৬.১)
৮. আপো হি ষ্ঠা ময়োভুবস্তা ন ঊর্জে দধাতন (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৪.১.৫.১)
৯. ইন্দ্রিয়ম্ বা আপঃ (কাঠক সংহিতা ৩২.২)
১০. ইমে বৈ লোকা অপ্সু প্রতিষ্ঠিতাঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.২২.৮৫)
১১. ইয়ম্ (পৃথিবী) বা এতাসাম্ (অপাম্) পাত্রম্ (কাঠক সংহিতা ৩২.৭)
১২. চত্বারি বা অপাꣳরূপণি। মেঘো বিদ্যুত্ স্তনয়িত্নুর্বৃষ্টিঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.২৪.৯৯)
১৩. তা (আপঃ) মিথুনমৈচ্ছন্ত। তা মিত্রাবরুণাবুপৈতাম্। তা গর্ভমদধত। ততো রেবতয়ঃ পশবোऽসৃজ্যন্ত (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ১.১৪০)
১৪. ত্রয়ীর্বা আপো দিব্যাঃ পার্থিবাঃ সমুদ্রিয়াঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ৩.৬.৩)
১৫. য়োষা বাऽআপো বৃষাগ্নিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১.১.১.১৮; ২.১.১.৪)
১৬. বিদ্যুদ্বাऽ অপাম্ জ্যোতিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৭.৫.২.৪৯)
১৭. অগ্নির্বা অপামায়তনম্। আপো বা অগ্নেরায়তনম্ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.২২.৭৮,৭৯)
১৮. অপাꣳ হ্যেষ গর্ভো য়দগ্নিঃ (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৫.১.৫.৮)

এই প্রমাণগুলোর উপর বিচার করলে নিম্নলিখিত নিষ্কর্ষ প্রাপ্ত হয় -

১. অগ্নি অর্থাৎ বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ এবং মূলকণা তথা আদিত্য (নক্ষত্র) লোকের নির্মাণ হওয়ার মাঝে আপঃ অবস্থা উৎপন্ন হয়। এইজন্য এই অবস্থাকে সন্ধি বলা হয়েছে। এই অবস্থাকে উৎপন্ন করতে বিদ্যুতের ভূমিকা আছে। এর উপর গম্ভীর ভাবে বিচার করলে স্পষ্ট হয় যে বিভিন্ন আয়ন এবং এটমের অবস্থাকেই জল (আপঃ) মহাভূত বলা হয়েছে।
২. [পিত্তম্ = তেজঃ (মহর্ষি দয়ানন্দ য়জুর্বেদ ভাষ্য ১৭.৬)] "আপঃ" নামক উপরোক্ত অবস্থাযুক্ত পদার্থের মধ্যে যেসব তেজ বিদ্যমান থাকে, সেটা অগ্নি অর্থাৎ বিদ্যুৎ অথবা প্রকাশাদি বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের কারণেই হয়, নিজের স্বয়ংয়ের কারণে নয়। "আপঃ" পরমাণুগুলোর (আয়ন এবং এটম) মধ্যে বিদ্যুৎ অথবা ঊর্জা ছাড়া কোনো ক্রিয়াই হওয়া সম্ভব নয়। এইজন্য অগ্নিকে "আপঃ" পরমাণুর তেজের রূপ বলা হয়েছে। এখানে "আপঃ" অর্থ প্রাণ রশ্মিও গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন বলাও হয়েছে -

প্রাণা বা আপঃ (তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৯.৯.৪; তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.২.৫.২; জৈমিনীয়োপনিষদ্ ব্রাহ্মণ ৩.২.৫.৯)
.
সেই পরিস্থিতিতে অগ্নিকে প্রাণের তেজ অর্থাৎ প্রাণ রশ্মিগুলো থেকে উৎপন্ন তেজ মানা উচিত।
.
৩. অগ্নি মহাভূতের পশ্চাৎ তথা সেই অগ্নি মহাভূত থেকেই আপঃ (জল) মহাভূতের উৎপত্তি হয়। এর অভিপ্রায় হল বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তথা মূলকণার উৎপত্তির পশ্চাৎ তথা এগুলো থেকেই বিভিন্ন আয়ন এবং এটম উৎপন্ন হয়।
৪. আপঃ পরমাণুগুলোর (আয়ন/এটম) মধ্যেও সব প্রকারের প্রাণ ও ছন্দ রশ্মি বিদ্যমান থাকে। এগুলোর মধ্যে পূর্বোক্ত আকাশ, বায়ু এবং অগ্নি মহাভূতও বিদ্যমান থাকে।
৫. সব প্রকারের আপঃ পরমাণু (আয়ন এবং এটম) সূক্ষ্ম দীপ্তি তথা আকর্ষণাদি বলযুক্ত হয়। সেগুলো সর্বদা পরস্পর সংযোগের জন্য তৎপর থাকে অর্থাৎ সেগুলো স্বতন্ত্র অবস্থায় না থেকে বিভিন্ন যুগ্ম (অণু বা মলিকিউল) তৈরির চেষ্টা করতে থাকে।
৬. এই কণাগুলো উৎপন্ন হতেই নিজের দীপ্তি কামনাদি গুণযুক্ত হয়। এই কারণে এগুলো বিভিন্ন সংযোগাদি কর্মকে নিজের গর্ভে ধারণ করে থাকে। এগুলোর ভিতরেই সম্পূর্ণ সৃষ্টি-যজ্ঞের গর্ভ লুকানো থাকে। বিভিন্ন প্রকারের সঘন রূপ ধারণ করে এই আপঃ পরমাণুর দ্বারা বিভিন্ন পদার্থ প্রকট হয়।
৭. যখন অগ্নি মহাভূত থেকে এই মহাভূতের উৎপত্তি হয়, তখন এর পরমাণু রূপ আয়ন এবং এটম বিভিন্ন সলিল রূপে প্রকট হয়। এর অভিপ্রায় হল সেই সময় সম্পূর্ণ অন্তরিক্ষের মধ্যে এই আয়ন বা এটমগুলোর মহাসমুদ্রের মতো উৎপন্ন হয়ে যায়। এমন মনে হয় যেন সেই মহাসমুদ্র রূপী সলিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ড লীন হয়ে যাচ্ছে, যেটা ক্রমে-ক্রমে প্রকট হবে। এই মহাসমুদ্রের মধ্যে অসংখ্য মাত্রায় কণাগুলো ক্রমাগত গতিমাণ থাকে।
৮. এইভাবে সেই মহাসমুদ্রের মধ্যে বিদ্যমান আপঃ পরমাণু শুরুতে তীব্র ঊর্জা-বল সম্পন্ন হয় না, বরং সেগুলোতে অগ্নি মহাভূত ধীরে-ধীরে ঊর্জার সঞ্চারণ করতে থাকে, যারফলে সেই আয়ন এবং এটমগুলো উত্তেজিত হতে থাকে আর অগ্রিম ধাপের পদার্থের নির্মাণ করতে সক্ষম হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে সেই উত্তেজিত আপঃ পরমাণু নিজের দ্বারা উৎপন্ন অগ্রিম ধাপের পদার্থের পরমাণুগুলোকে ঊর্জা প্রদান করতেও প্রবৃত্ত হতে থাকে।
৯. সব আয়ন এবং এটম ইন্দ্রিয় রূপ হয় অর্থাৎ অগ্রিম পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। সেগুলো এই জন্য বিদ্যুৎ চুম্বকীয় আদি বল যুক্ত হয়।
১০. এই সমগ্র লোক অর্থাৎ ভূরাদি বিভিন্ন ব্যাহৃতি তথা ছন্দ রূপ রশ্মিগুলো এই উপরোক্ত আয়ন এবং এটমের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত বা ব্যাপ্ত থাকে। একইসঙ্গে এই ব্রহ্মাণ্ডে বিভিন্ন লোক, গ্যালাক্সি আদি বিশাল লোক সমূহ সব দিক থেকে এই আপঃ পরমাণুর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়। এর তাৎপর্য হল সমগ্র লোক-লোকান্তর আপঃ পরমাণু দিয়ে পরিতঃ/সর্বতঃ ব্যাপ্ত থাকে তথা সেগুলো দিয়েই তৈরি হয়।
১১. অগ্রিম ধাপের মহাভূত পৃথিবী এই আপঃ পরমাণুর আধার হয় অর্থাৎ আপঃ পরমাণু পার্থিব পরমাণুগুলোর মধ্যে ভরা থাকে।
১২. এই সৃষ্টির মধ্যে আপঃ পরমাণু চার রূপে প্রাপ্ত হয় -
🪴মেঘ - কিছু পরমাণু অন্তরিক্ষের মধ্যে মেঘ রূপে বিদ্যমান থাকে, যেগুলো আয়নিক ক্লাউড রূপে পরিচিত। এর থেকে কালান্তরে বিভিন্ন লোকের নির্মাণ সম্ভব হয়।
🪴বিদ্যুৎ - এগুলো আয়ন রূপে বিভিন্ন লোককে চারিদিক থেকে ব্যাপ্ত করে। এগুলো লোক তথা প্রাণী এবং উদ্ভিদের ভিতরে বিদ্যমান থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়াকে সম্পাদিত করে সেগুলোকে পোষণ ও রক্ষণ করে।
🪴স্তনয়িত্নু - এগুলো মেঘরূপ পদার্থের মধ্যে তীব্র গর্জনাযুক্ত বিদ্যুৎকে উৎপন্ন করে। মেঘের মধ্যে বিদ্যুতের গর্জন এগুলোর কারণেই হয়। এগুলোর ঊর্জা তীব্রতর হয়, এই কারণে এগুলো প্রবল ভেদন শক্তি সম্পন্ন হয়।
🪴বৃষ্টি - এই আপঃ পরমাণু এই অন্তরিক্ষের মধ্যে বিভিন্ন লোক থেকে নিরন্তর আতে-বর্ষণ করতে থাকে। পৃথিবীলোকের উপরে পরে এমন অনেক কসমিক পার্টিকল বা আয়ন এগুলোরই রূপ হয়।
১৩. সেই আপঃ পরমাণু নিরন্তর মিথুন/যুগ্ম তৈরির ইচ্ছাকারী হয়। প্রাণ-অপান ও ব্যান-উদান রশ্মি সেগুলোর যুগ্মকে নির্মিত করতে প্রবৃত্ত হয় এবং সেগুলোর যুগ্ম তৈরি করে। এরফলে সেগুলো বিভিন্ন তেজযুক্ত কিরণ রূপী গর্ভকে ধারণ করে বিবিধ প্রকারের পশু অর্থাৎ দ্রষ্টব্য কণাকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়। সেই কণা [রেবত্যঃ = রেবত্য আপঃ (ষড্বিংশ ব্রাহ্মণ ১.২.২.২)] বিভিন্ন গর্জন যুক্ত নদীরূপ ধারার রূপ ধারণ করে এই বিশাল অন্তরিক্ষের মধ্যে প্রবাহিত হতে থাকে।
১৪. এখানে আপঃ পরমাণুকে নিম্নানুসারে তিন প্রকারের বলা হয়েছে -
🪴দিব্য - যে আয়ন সূর্যাদি প্রকাশিত লোকের মধ্যে বিদ্যমান হয়ে সেগুলোর পোষণ করে, তাকে দিব্য আপঃ বলা হয়। নক্ষত্রের মধ্যে ঊর্জার উৎপাদন এগুলোর একত্রীকরণের কারণে হয়।
🪴পার্থিব - যে আয়ন পৃথিবী আদি গ্রহ অথবা উপগ্রহাদি লোকের মধ্যে বিদ্যমান থেকে বিভিন্ন প্রকারের ভূগর্ভীয় এবং জৈবিক আদি ক্রিয়াকে সম্পাদিত করে, তাকে পার্থিব আপঃ বলা হয়।
🪴 সমুদ্রীয় - যে আয়ন [সমুদ্রঃ = অন্তরিক্ষনাম (নিঘন্টু ১.৩)] অন্তরিক্ষের মধ্যে নিরন্তর বিচরণ করে তথা এক লোক থেকে অন্য লোকে যার গমনাগমন হয়, তাকে সমুদ্রীয় আপঃ বলা হয়।
১৫. এই আপঃ পরমাণু য়োষা রূপ হয়ে বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ রূপী বৃষার সঙ্গে নিরন্তর সংযোগ করতে থাকে। সেই বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ বিভিন্ন আয়ন এবং এটমকে উত্তেজিত করে বিভিন্ন পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম করে তোলে।
১৬. একে দ্বিতীয় সংখ্যাতে বর্ণিত বচনের সমান বুঝে নিবেন।
১৭. অগ্নি তত্ত্ব এই আপঃ পরমাণুর আয়তন হয় অর্থাৎ ঊর্জা বা বিদ্যুদাবেশ বিভিন্ন আয়ন বা এটমের মধ্যে রমা হয়ে থাকে। একইসঙ্গে বিভিন্ন আয়ন বা এটম ঊর্জা বা বিদ্যুদাবেশের মধ্যেই রমে থাকে অর্থাৎ ঊর্জা ও আবেশ এগুলোর মধ্যে সর্বতঃ ব্যাপ্ত থাকে।
১৮. বিদ্যুদাবেশ বা ঊর্জা বিভিন্ন আপঃ পরমাণুর মধ্যে গর্ভরূপ হয়ে বিদ্যমান থাকে। এর তাৎপর্য হল এই ঊর্জা যদি এটম বা আয়নের মধ্যে বিদ্যমান না থাকে, তাহলে সেগুলো কোনো পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে না। একইসঙ্গে সেগুলো কোনোরূপ কোনো ক্রিয়াকে সম্পাদিত করতে পারবে না।
.
এই উপরোক্ত আঠারো বিন্দুর উপরে বিচার করলে এই মত পুষ্ট হয় যে আয়নিক বা এটমিক স্টেট-কে আপঃ (জল) মহাভূত বলা হয়েছে। এখন আমি জল ও আপঃ বিষয়ে ঋষি দয়ানন্দের বিচারকে উদ্ধৃত করবো। তিনি সত্যার্থপ্রকাশের প্রথম সমুল্লাসে ঈশ্বরের নামের মধ্যে "জল" শব্দের ব্যুৎপত্তি করে লিখেছেন -

"জলতি ঘাতয়তি দুষ্টান্ সম্ঘাতয়তি অব্যক্তপরমাণ্বাদীন্ তদ্ ব্রহ্ম জলম্"
.
এই ব্যুৎপত্তি ব্রহ্ম রূপ জলের জন্য হয়েছে। এখানে আমরা যদি জল মহাভূতের বিষয়ে বিচার করি, তাহলে বিভিন্ন পরমাণুকে ভঙ্গ অথবা সংযুক্তকারী পদার্থ আপঃ সিদ্ধ হয়। এই গুণ আয়নের মধ্যে সর্ববিদিত আছে, এই কারণে আয়নকে জল বলা একদম উচিত হবে। অন্যদিকে ঋষি দয়ানন্দ য়জুর্বেদ ২৭.২৬ মন্ত্রের ভাষ্যে "আপঃ" পদের অর্থ "ব্যাপ্তিশীলাঃ সূক্ষ্মাস্তন্মাত্রাঃ" করেছেন। এরদ্বারাও আমার মতের পুষ্টি হয় যে আয়ন বা এটমই হল আপঃ (জল) মহাভূতের পরমাণু। এই আয়ন হাইড্রোজেন থেকে শুরু করে ভারী তত্ত্বেরও হতে পারে। সত্যার্থপ্রকাশের অষ্টম সমুল্লাসের অনুসারে জলের একটা অণুর মধ্যে সর্বমোট চার দ্বয়ণুক অর্থাৎ সর্বমোট ৪৮০ প্রকারের প্রাণ ও ছন্দাদি রশ্মি আছে। এত রশ্মির সংঘাতে স্বাদ গুণ প্রকট হয়ে যায়, এটা হল আমার মত। এখানে রশ্মির সংখ্যা সবথেকে লঘু আয়ন অথবা এটমে মানা উচিত। বড় আয়ন ও এটমে এটা অধিক হতে পারে, কিন্তু ৬০০ অথবা ৭২০ থেকে কম হবে। সেটা আয়ন ও এটম রূপেই হোক না কেন যদি এর সমান হয়, তাহলে সেটা পৃথিবী মহাভূতের রূপ প্রাপ্ত করে নিবে।
Read More

03 November, 2026

অগ্নি তত্ত্ব

03 November 0

অগ্নি তত্ত্ব
তৃতীয় মহাভূত জ্যোতিরূপ অগ্নি:-

পঞ্চমহাভূতে বর্ণিত অগ্নি নামক মহাভূত বিদ্যুৎ আবেশ তথা বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়েছে অর্থাৎ এই দুটোকেই অগ্নি বলা হয়। নিরুক্ত শাস্ত্রের মধ্যে এগুলোকে পৃথক-পৃথক শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। মহর্ষি ব্রহ্মার কথন হল -


তৃতীয়ম্ জ্যোতিরিত্যাহুশ্চক্ষুরধ্যাত্মমুচ্যতে।
অধিভূতম্ ততো রূপম্ সূর্য়স্তত্রাধিদৈবতম্।।২০।।
(মহাভারত, আশ্বমেধিক পর্ব, অনুগীতা পর্ব, অধ্যায় - ৪২)

অর্থাৎ তৃতীয় মহাভূতকে জ্যোতিরূপ অগ্নি বলা হয়। এই সময়ই চক্ষু ইন্দ্রিয় রূপ সূক্ষ্ম রশ্মিগুলো উৎপন্ন হয়। সূর্য অর্থাৎ বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের ফোটনগুলো অগ্নির রূপই হয়।

এই বিষয়ে মহর্ষি ভৃগু বলেছেন -

তস্মিন্ বায়্বম্বুসম্ঘর্ষে দীপ্ততেজা মহাবলঃ।
প্রাদুরভূদূর্দ্ধশিখঃ কৃত্বা নিস্তিমিরম্ নভঃ।।১৪।।
(মহাভারত শান্তি পর্ব, মোক্ষধর্ম পর্ব, অধ্যায় - ১৮৩)

অর্থাৎ পূর্বোক্ত আকাশ এবং বায়ুর সংঘর্ষ দ্বারা দীপ্ত তেজ এবং বলবান্ অগ্নি তত্ত্ব উৎপন্ন হয়, যারফলে সম্পূর্ণ আকাশ তত্ত্ব প্রকাশিত হয়ে ওঠে। অগ্নির রশ্মির দিশা আকাশের সঙ্গে সংঘর্ষ করতে-করতে বায়ু রশ্মির দিশার বিপরীত হয়, একেই ঊর্ধ্বশিখ নাম দেওয়া হয়েছে। এখানে আমি "অম্বু" শব্দের অর্থ জল গ্রহণ না করে আকাশ মহাভূত গ্রহণ করেছি। এই শব্দ এই প্রকরণের মধ্যেই "সলিল" -এর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যার দ্বারা বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি বলা হয়েছে। জল থেকে বায়ুর উৎপত্তি সম্ভব নয়, এই কারণে আমি পূর্বে এর অর্থ আকাশই গ্রহণ করেছি, এই কারণে সেই সলিলের স্থানে ব্যবহৃত "অম্বু" শব্দ আকাশেরই বাচক মানা উচিত, জলের বাচক নয়। ঋষি দয়ানন্দ উণাদিকোষ ১.২৭ ব্যাখ্যাতে "অম্বু" পদের ব্যুৎপত্তি করে বলেছেন -

"অমন্তি গচ্ছন্তি চেষ্টন্তে প্রাণিনো য়ে তদ্ অম্বু"

প্রাণ তত্ত্ব থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন পরমাণু আদি পদার্থ অবশ্যই আকাশ তত্ত্বের দ্বারা প্রেরিত হয় অর্থাৎ সেগুলোর প্রত্যেক ক্রিয়া-গতি আদির মধ্যে আকাশের অনিবার্য ভূমিকা আছে। ঋষি দয়ানন্দ এই শব্দের অর্থ জল করেছেন, এই বিষয়টা ভিন্ন। এই ব্যুৎপত্তি থেকে আকাশের গ্রহণ করা সর্বথা সম্ভব ও প্রকরণের অনুকূল। আমার দৃষ্টিতে এই শব্দের ব্যুৎপত্তি এইভাবেও হওয়া সম্ভব - অমন্তি গচ্ছন্তি চেষ্টন্তে পরমাণবো য়স্মিন্ তদ্ অম্বু।

এখন অগ্নির বিষয়ে কিছু অন্য ঋষিদের বচনকে উদ্ধৃত করবো -

১. অগ্নয়ো বৈ ছন্দাꣳসি (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৫.৭.৯.৩)
২. অগ্নিম্ বৈ পশবঃ প্রবিশন্ত্যগ্নিঃ পশূন্ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.৮.২)
৩. অগ্নিঃ প্রজনয়িতা (কাঠক সংহিতা ৬.৭; ২৭.৮; কপিষ্ঠল সংহিতা ৬.৫)
৪. অগ্নিঃ প্রথম ইজ্যতে (মৈত্রায়ণী সংহিতা ৩.৮.১)
৫. অগ্নিনা তপোऽন্বাভবৎ (কাঠক সংহিতা ৩৫.১৫; কপিষ্ঠল সংহিতা ৪৭.১৩)
৬. অগ্নিনা বা অনীকেনেন্দ্রো বৃত্রমহন্ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.১০.৫; কাঠক সংহিতা ৩৫.২০; কপিষ্ঠল সংহিতা ৪৭.১৮)
৭. অগ্নিরসি পৃথিব্যাꣳশ্রিতঃ। অন্তরিক্ষস্য প্রতিষ্ঠা (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.১১.১.৭)
৮. অগ্নিরেকাক্ষরয়োদজয়ন্মামিমাম্ পৃথিবীম্ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.১১.১০)
৯. অগ্নিরেকাক্ষরয়া বাচমুদজয়ত্ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.১১.১০; কাঠক সংহিতা ১৪.৪)
১০. অগ্নিরু দেবানাম্ প্রাণঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ১০.১.৪.১২)
১১. অগ্নির্গায়ত্রছন্দাঃ (কাঠক সংহিতা ৯.১৩)
১২. অগ্নিম্ বৈ বিভাজম্ নাশক্নুবꣳ স্তমশ্বেন ব্যভজন্ (কাঠক সংহিতা ৮.৫)
১৩. অগ্নির্বৈ দেবানাম্ পথিকৃৎ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ১.৮.৯)
১৪. অগ্নির্বৈ মিথুনস্য কর্ত্তা প্রজনয়িতা (শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.৪.৩.৪)
১৫. তে বাऽএতে প্রাণা এব য়দ্ অগ্নয়ঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ২.২.২.১৮)
১৬. দেবরথো বা অগ্নয়ঃ (কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ৫.১০)
১৭. ভূরিতি বা অগ্নিঃ (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৭.৫.২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৫.২)
১৮. বিশ্বকর্মায়মগ্নিঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৯.২.২.২)
১৯. মিথুনম্ বা অগ্নিশ্চ সোমশ্চ সোমো রেতোধা অগ্নিঃ প্রজনয়িতা (কাঠক সংহিতা ৮.১০; কপিষ্ঠল সংহিতা ৭.৬)

এই উপরোক্ত বচনগুলো থেকে নিম্নলিখিত নিষ্কর্ষ প্রাপ্ত হয় -

১. এই পদার্থ পূর্বোক্ত ছন্দ রশ্মিরই রূপ হয় অর্থাৎ সেগুলো থেকেই নির্মিত হয় আর সেগুলোর মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত থাকে।
২. পশুঃ = প্রাণাঃ পশবঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৭.৫.২.৬; তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৭.৩.২৮),
পশবো মারুতঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ৩.৩.১০; কাঠক সংহিতা ২১.১০),
পশবো বৈ মরুতঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ৪.৬.৮; কাঠক সংহিতা ৩৬.১; ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ৩.১৯),
পশবো বৈ ছন্দাꣳসি (তৈত্তিরীয় সংহিতা ৬.৪.১.৩),
পশবশ্ছন্দাꣳসি (মৈত্রায়ণী সংহিতা ৪.৩.৫; কাঠক সংহিতা ১২.৮; কপিষ্ঠল সংহিতা ৩০.৮; কৌষীতকি ব্রাহ্মণ ১১.৫)

বিভিন্ন পশু অর্থাৎ প্রাণ, মরুত্ ও ছন্দ রশ্মি অগ্নি তত্ত্বের মধ্যে প্রবেশ করে এবং অগ্নি তত্ত্ব এই রশ্মিগুলোর মধ্যে ব্যাপ্ত থাকে অর্থাৎ অগ্নি তত্ত্ব এই রশ্মিগুলোর ভিতরে-বাইরে সম্পূর্ণভাবে ভরে থাকে।
৩. অগ্নি তত্ত্ব বিভিন্ন পদার্থের উৎপন্নকারী হয়। এর অভাবে কোনো স্থূল পদার্থের উৎপত্তি হওয়া সম্ভব নয়।
৪. পরমাণু (কণা বা বিকিরণ) রূপে এই পদার্থই বিদ্যমান হয়, যারমধ্যে সর্বপ্রথম সংযোগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপূর্বে উৎপন্ন বায়ু পদার্থ কণা রূপে নয়, বরং ক্রমাগত প্রবাহের রূপে বিদ্যমান রশ্মির রূপে বিদ্যমান থাকে, অথচ অগ্নি তত্ত্ব কণা বা কোয়ান্টার রূপেও বিদ্যমান থাকে আর তার সংযোগ-বিয়োগ বায়ু রশ্মির সংযোগ-বিয়োগ থেকে ভিন্ন হয়।
৫. ঊষ্মার সর্বপ্রথম উৎপত্তি অগ্নি তত্ত্বের দ্বারা অর্থাৎ এর রূপেই হয়। এর উৎপন্ন হওয়ার পূর্বে সম্পূর্ণ পদার্থ প্রায় ঊষ্মারহিত অবস্থায় থাকে।
৬. তীক্ষ্ণ বিদ্যুৎ আবেশিত তরঙ্গ এই সৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন কস্মিক মেঘ তথা বাঁধক ডার্ক পদার্থ বা ডার্ক এনার্জিকে নষ্ট বা নিয়ন্ত্রিত করে।
৭. বিদ্যুৎ আবেশ অথবা বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ কোনো কণার মধ্যে আশ্রিত হয় এবং আকাশকে নিজের ভিতরে প্রতিষ্ঠিত করে রাখে। এগুলো আকাশের মধ্যে কখনও স্থায়িত্বকে প্রাপ্ত করতে পারে না, বরং এগুলো আকাশের মধ্যে নিরন্তর গমন করতে থাকে।
৮. অগ্নি তত্ত্ব একাক্ষরা বাক্ রশ্মি অর্থাৎ "ওম্" এবং "ভূঃ" আদির দ্বারা সব প্রকারের পার্থিব পরমাণুকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর থেকে সংকেত পাওয়া যায় যে বিদ্যুৎ আবেশিত কণার পরস্পর একে-অপরের ক্রিয়া করার সময় তথা বিভিন্ন কোয়ান্টার দ্বারা কোনো কণাকে বিভিন্ন গতি ও ক্রিয়াযুক্ত করার সময় এই "ওম্" এবং "ভূঃ" রশ্মির অনিবার্য অবদান থাকে। এখানে "মা" থেকে পৃথিবী তত্ত্বেরই গ্রহণ করা উচিত। এই বিষয়ে বলা হয়েছে -

"অয়ম্ বৈ (পৃথিবী) লোকো মা অয়ম্ লোকো মিত ইব" (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৩.৩.৫)।

৯. এই অগ্নি তত্ত্ব অথবা এর অঙ্গভূত প্রাণ রশ্মিগুলো "ওম্" একাক্ষরা বাক্ রশ্মির দ্বারাই অন্য বাক্ অর্থাৎ মরুত্ ও ছন্দ রশ্মিকে নিয়ন্ত্রিত করে বা রাখে। এই কারণে অগ্নি তত্ত্বের নির্মাণ কিংবা কাজগুলোতে এই একাক্ষরা বাক্ রশ্মির অনিবার্য ভূমিকা আছে।
১০. এই তত্ত্ব বিভিন্ন প্রকাশিত পদার্থের প্রাণ রূপ হয় অর্থাৎ সেগুলোকে প্রকাশিত ও গতিশীল করতে এর ভূমিকা আছে। এই সৃষ্টিতে অগ্নির অভাবে কোনো কণা ও স্থূল পদার্থের না তো নির্মাণ হওয়া সম্ভব আর না সেটা কোনো ক্রিয়া ও গতি করতে সক্ষম হবে।
১১. অগ্নি তত্ত্বের মধ্যে গায়ত্রী ছন্দ রশ্মির প্রাধান্য আছে।
১২. অগ্নির পরমাণু, আবেশিত কণা বা কোয়ান্টা সাধারণত বিভাজিত হতে পারে না, কিন্তু এর তীব্র ঊর্জা সম্পন্ন হওয়াতে তথা তীব্র ঊর্জা-ক্ষেত্র বা তীক্ষ্ণ বল সম্পন্ন ক্ষেত্র দিয়ে অতিক্রম করলে এর বিভাজন হওয়া সম্ভব।
১৩. অগ্নি তত্ত্ব বিভিন্ন কণার মার্গ নির্মাণকারী হয় অর্থাৎ কোনো কণার মার্গ সেই কণার ঊর্জার উপর নির্ভর করে।
১৪. অগ্নি তত্ত্ব বিভিন্ন প্রকারের কণার যুগ্মকে উৎপন্ন করে সেগুলোর দ্বারা বিভিন্ন পদার্থের নির্মাণকারী হয়। অগ্নির অভাবে কোথাও সংযোগ-বিয়োগের ক্রিয়া হওয়া সম্ভব নয়।
১৫. অগ্নি তত্ত্ব প্রাণ রশ্মির দ্বারা নির্মিত হওয়াতে প্রাণস্বরূপ হয়। পূর্বেও একে ছন্দ, মরুত্ ও প্রাণ রশ্মির দ্বারা নির্মিত বলা হয়েছে।
১৬. অগ্নি তত্ত্ব বিভিন্ন প্রকাশিত কণাকে রথের সমান বহনকারী হয়।
১৭. অগ্নি তত্ত্বের (বিশেষ করে বিদ্যুৎ আবেশ যুক্ত কণা) মধ্যে "ভূঃ" ছন্দ রশ্মি বিশেষ রূপে বিদ্যমান থাকে।
১৮. সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে যে কর্মই হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে অগ্নি তত্ত্বের অনিবার্য ভূমিকা আছে। এই কর্ম বর্তমান ভৌতিক টেকনিক দ্বারা জানার যোগ্য মানা উচিত। বায়ু রশ্মির স্তরের কর্ম অগ্নির দ্বারা হয় না, এই কারণে সেগুলোকে বর্তমান ভৌতিক টেকনিক দ্বারা জানা সম্ভব নয়।
১৯. এই সৃষ্টি অগ্নি এবং সোমের মিথুন দ্বারা নির্মিত হয়। এখানে সোমের অর্থ অপ্রকাশিত ঠাণ্ডা বায়ু তত্ত্ব মানা উচিত। এই সোম তত্ত্বই অগ্নি তত্ত্বের মধ্যে রেত অর্থাৎ বীর্যকে ধারণকারী হয় অর্থাৎ এই সোম রশ্মিগুলো (প্রাণ, ছন্দ ও মরুত্) অগ্নি তত্ত্বের মধ্যে বল ও তেজের সঞ্চার করে, যারফলে অগ্নি তত্ত্ব আগামী পদার্থকে উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়।
.
এই উপরোক্ত প্রমাণগুলো থেকে সুবিজ্ঞ পাঠকদের নিশ্চয়ই বিদিত হয়ে গেছে যে অগ্নি তত্ত্ব বিদ্যুৎ আবেশ এবং বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গেরই রূপ হয়। বর্তমান ভাষায় বলা যেতে পারে বিভিন্ন বিকিরণ বা ঊর্জা অগ্নি তত্ত্বেরই রূপ হয়। আমি এপর্যন্ত অগ্নির বিষয়ে যা যা প্রস্তুত করেছি, সেগুলোর মধ্যে অনেক বিষয়ে বর্তমান বিজ্ঞান নিতান্ত অনভিজ্ঞ আছে, তো কিছু বিষয়ে তার স্বল্প জ্ঞান আছে।
Read More

31 October, 2026

বায়ু তত্ত্ব

31 October 0

বায়ু তত্ত্ব
বায়ু তত্ত্ব হল আকাশ তত্ত্বের পৃষ্ঠরূপ [অয়ম্ বায়ুরন্তরিক্ষস্য পৃষ্ঠম্ (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.২৫২)], এখানে এর দুটো অর্থ আছে। এরমধ্যে প্রথম হল পূর্বে অনেকত্র বর্ণিত অহংকার রূপ বায়ু হল আকাশ তত্ত্বের আধার। এই দিব্য বায়ুই আকাশ তত্ত্বের মূল উপাদান কারণ হওয়ার পাশাপাশি তার আধারও হয়। এখানে দ্বিতীয় অর্থ হল বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের পশ্চাৎ উৎপন্ন হয়। এই সৃষ্টির প্রত্যেক কর্ম বা বলের পিছনে বায়ু রশ্মিগুলোই প্রধান কারণ হয়। এই কারণেই একে বিশ্বকর্মা (অয়ম্ বৈ বায়ুর্বিশ্বকর্মা; শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.১.১.৭) অর্থাৎ সবার কর্ত্তা বলা হয়। এই সৃষ্টির মধ্যে প্রত্যেকটা উৎপন্ন পদার্থ বায়ু তত্ত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত থাকে, আবার এর থেকে উৎপন্নও হয়  (মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.২.৭)। বায়ু তত্ত্ব বিভিন্ন পদার্থের বীজকে বিভিন্ন প্রকারে উৎপন্ন ও ধারণ করে। এটা পদার্থকে বিকৃত বা রূপান্তরিত করে অন্য অনেক পদার্থের নির্মাণ করে। এইভাবে এটা বিভিন্ন ক্রিয়া বা বলকে উৎপন্ন করে (শতপথ ব্রাহ্মণ ১৩.৩.৮.১)। বায়ু তত্ত্ব বিভিন্ন পদার্থকে জুড়ে রাখার কাজ করে। এর অভাবে কোনো পদার্থই পরস্পর সন্ধি করতে পারবে না (তৈত্তিরীয় আরণ্যক ৭.৩.১-২; তৈত্তিরীয় উপনিষদ ১.৩.১-২)। এই তত্ত্ব অন্য সব পদার্থের সঙ্গে মিলিত থেকে সেগুলোকে পরস্পর মিলিয়েও রাখে তথা বিভিন্ন পদার্থের বিয়োজন কর্মেও এই বায়ু তত্ত্বই তার ভূমিকা পালন করে (জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ২.৫৬)। এই বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের মধ্যে আশ্রিত থেকে বিভিন্ন দ্যুলোককে প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ আধার প্রদান করে। একে ছাড়া দ্যুলোকের উৎপত্তি ও স্থিতি হওয়া সম্ভব নয়। আবার আকাশের অভাবে বায়ু তত্ত্ব হওয়াও সম্ভব নয় (তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণ ৩.১১.১.৯)। বিভিন্ন দেব পদার্থের মধ্যে বায়ু তত্ত্ব সবথেকে অধিক সংকুচিত বা প্রক্ষেপক, আকর্ষক বা প্রতিকর্ষক বলযুক্ত হয়। বস্তুতঃ এই সৃষ্টির মধ্যে যেসব বল বিদ্যমান আছে, সেটা বায়ুর বলই হয় [বায়ুর্বৈ দেবানামোজিষ্ঠঃ ক্ষেপিষ্ঠঃ (মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.৫.১)]। [তূর্ণি = ক্ষিপ্রনাম (নিঘন্টু ২.১৫), তূর্ণিঃ কর্ম (নিরুক্ত ৭.২৭)] এটা অতিশীঘ্র বিভিন্ন প্রকারের কর্মকে অব্যক্ত রূপে সম্পাদিত করে। এর আবশ্যকতাকে দেখিয়ে মহর্ষি য়াজ্ঞবল্ক্য বলেছেন - "অনিরুক্তো হি বায়ুঃ" (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৭.৩.১২)। অনিরুক্তের অর্থ সম্বন্ধে বলেছেন - "অপরিমিতম্ বাऽ অনিরুক্তম্ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৫.৪.৪.১৩)। এর থেকে সংকেত পাওয়া যায় যে বায়ু তত্ত্ব মানবের দৃষ্টিতে অপরিমিত ক্ষেত্রে ব্যাপ্ত হয়ে সমস্ত কণা বা কোয়ান্টা আদি পদার্থকে প্রত্যেক ক্রিয়াতে তাদের সক্ষম করে তোলে (ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.৩৪)।


বায়ু কি আর তার স্বরূপ কি? 

পূর্বোক্ত বিভিন্ন প্রকারের প্রাণ রশ্মিগুলোই বায়ু রূপ হয়। এই প্রাণ রশ্মি তথা পূর্বোক্ত বিভিন্ন ছন্দ রশ্মির সমূহের মিশ্রণই বায়ু তত্ত্বের নামে পরিচিত। সূক্ষ্ম প্রাণ ও ছন্দ রশ্মিগুলো আকাশ তত্ত্বের নির্মাণ করে, কিন্তু আকাশ তত্ত্বের নির্মাণের পশ্চাৎ উৎপন্ন বৃহৎ ছন্দ রশ্মির সঙ্গে প্রাণ রশ্মির মিশ্রণ বায়ু তত্ত্বের নামে জানা যায় [প্রাণো হি বায়ুঃ (তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ৪.৬.৮), প্রাণা উ বৈ বায়ুঃ (শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৪.১.৮)] 

শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৭.৩.১২ "ত্রৈষ্টুভো হি বায়ুঃ" এই বচন থেকে সংকেত পাওয়া যায় যে ঋষিরা এই ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ রশ্মির উৎপন্ন হওয়ার পূর্বে প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির মিশ্রণকে বায়ু সংজ্ঞা করেন নি। যখন ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ রশ্মি উৎপন্ন হয়ে যায়, সেই সময় বিভিন্ন প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির মিশ্রণ বায়ু নামে পরিচিত হয়। এরপরই সেই প্রাণ ও ছন্দ রশ্মিগুলো অধিক তীব্র তেজ এবং বলযুক্ত হতে থাকে।

বায়ুর্বাতের্বেতের্বা স্যাত্ গতিকর্মণঃ (নিরুক্ত ১০.১) এই বচনানুসারে বায়ু শব্দ "বা গতিগন্ধনয়োঃ" ধাতু দ্বারা নিষ্পন্ন হয়। গতি অর্থযুক্ত হওয়াতে স্পষ্ট হয় যে এই তত্ত্ব সর্বদা গতিশীল থাকে, অথচ গন্ধন অর্থ একটা গম্ভীর বিজ্ঞানকে দর্শায়। আপ্টে সংস্কৃত-হিন্দি কোষের মধ্যে "গন্ধনম্" পদের অনেক অর্থ দেওয়া আছে, যেমন - অবিরাম প্রচেষ্টা, আঘাত করা, প্রকাশন, বিজ্ঞপ্তি এবং সংকেত আদি। এই অর্থের দ্বারা বায়ু এমন তত্ত্ব সিদ্ধ হয় যেটা অবিরাম গতি ও চেষ্টা করতে থাকে। এটা বিভিন্ন পদার্থের সঙ্গে তথা নিজের সঙ্গে (বায়ু রশ্মিগুলো পরস্পর) আকর্ষণ-প্রতিকর্ষণ-ধারণ আদি ভাব রাখে। এর কারণেই সৃষ্টির পদার্থের বিভিন্ন গুণ প্রকাশিত হয় তথা বিভিন্ন সংবাদ-সূচনার মাধ্যম বা বাহক এই তত্ত্বই হয়। সব প্রকারের বল এবং ফিল্ডের কারণ এই বায়ুই হয়। সৃষ্টির সমস্ত সংকেত বায়ু রশ্মির রূপেই আসে। যেসব সংকেত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে আসে, সেগুলোরও মূল কারণ বায়ু তত্ত্বই হয়। মহর্ষি য়াস্কের উপরোক্ত বচনে "বায়ুঃ" পদ "বী গতিব্যাপ্তিপ্রজনকান্ত্যসনখাদনেষু" ধাতু দ্বারা নিষ্পন্ন হয়। এরদ্বারা স্পষ্ট হয় যে বায়ু রশ্মিগুলো ক্রমাগত গমনশীল থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন পদার্থকে ব্যাপ্ত করে, সেগুলোকে পরিধি রূপে ঘিরে ধরে, সেগুলোকে প্রেরিত বা প্রক্ষিপ্ত করে আর সেগুলোকে বিভিন্ন পদার্থের উৎপত্তিতে সক্ষম করে তোলে। সব পদার্থের সকল ক্রিয়া এই বায়ু তত্ত্বের রশ্মির মাধ্যমেই হয়।

বৈশেষিক দর্শন ২.১.৪ তে বলা হয়েছে "স্পর্শবান্ বায়ুঃ" অর্থাৎ পূর্বে আকাশের গুণ "শব্দ" বলা হয়েছে, এখানে বায়ু তত্ত্বের গুণ স্পর্শ বলা হয়েছে। ঋষি দয়ানন্দ "স্পর্শ সংস্পর্শনে" ধাতুর অর্থ "আলিঙ্গন করা", "বাঁধা", "অনুগত হওয়া" তথা "গ্রহণ করা" করেছেন। তিনি তাঁর বেদভাষ্যে বিভিন্ন স্থলে নিম্নানুসারে অর্থ গ্রহণ করেছেন:- 

স্পৃশ = অনুগতো ভব (যজুর্বেদ ভাষ্য ১৩.১০)
স্পৃশ = গৃহাণ (ঋগ্বেদ ভাষ্য ৪.৩.১৫)
স্পৃশন্তি = আলিঙ্গয়ন্তি (ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৬২.১১)
স্পৃশন্তি। = সম্বধ্নন্তি (ঋগ্বেদ ভাষ্য ১.৩৬.৩)

এরদ্বারাও এটাই স্পষ্ট হয় যে "স্পর্শবান্ বায়ুঃ" -র তাৎপর্য কেবল স্পর্শকারী নয়, বরং প্রত্যেক পদার্থের ভিতরে অনুকূলতাপূর্বক ব্যাপ্ত, তাকে গ্রহণ করে অধিকারে করে, তার সাথে সংযুক্ত থেকে এবং তাকে বাঁধতে-মিশ্রণকারীও হয়। এইদিকে আমাদের শরীরে স্পর্শ করার ক্রিয়াও বায়ু রশ্মির কারণেই সম্ভব হয়।

এই তত্ত্বকে আচার্য সুশ্রুত "রজোবহুলো বায়ুঃ" (সুশ্রুত সংহিতা, শারীরস্থানম্ ১.২৭) বলে রজোগুণ প্রধান বলেছেন। এই কারণে এটা সর্বদা ক্রিয়াশীল থাকে। এরমধ্যে দ্রব্যমান নগণ্য এবং দীপ্তি অতি মন্দ হয়। মহর্ষি ব্রহ্মা এবং মহর্ষি ভৃগুর বচন (অনুগীতা, মোক্ষধর্মপর্ব) থেকে এই সংকেত পাওয়া যায় যে আকাশের পশ্চাৎ বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এই সময়েই প্রাণীদের করণরূপ স্পর্শ ইন্দ্রিয় রূপী সূক্ষ্ম রশ্মির উৎপত্তি হয়। বায়ু তত্ত্বের সাথে-সাথে সূক্ষ্ম কার্যরূপ বিদ্যুতেরও উৎপত্তি হয়, একে ফিল্ডস রূপও বলা যেতে পারে। আকাশ তত্ত্বের সংকোচন থেকে বায়ু তত্ত্বের উৎপত্তি হয়। এই বায়ু তত্ত্ব আকাশ তত্ত্বের ভিতরে উর্ধগামীর মতো উৎপন্ন হয়। একে উপমার দ্বারা বোঝাতে বলা হয়েছে যে ছিদ্ররহিত কোনো পাত্র পূর্ণরূপে নিঃশব্দ মনে হয় আর যখন তাতে ছিদ্র করে জল ভরা হয়, সেই সময় ধ্বনি উৎপন্ন হয়। ঠিক এইভাবে নিঃশব্দ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে যখন পূর্বোক্ত বলবান্ বায়ু তত্ত্ব উৎপন্ন হয়, তখন আকাশ তত্ত্বের মধ্যে ধ্বনি উৎপন্ন হতে থাকে। এখানে এই সংকেতও পাওয়া যায় যে যেভাবে আকাশ তত্ত্বের উৎপত্তি সর্বত্র একসঙ্গে হয় না, সেইভাবে বায়ু তত্ত্বও এক স্থান বিশেষে সর্বপ্রথম প্রকট হয়। তারপর সম্পূর্ণ আকাশ তত্ত্বের মধ্যে বায়ু রশ্মিগুলো বেগের সাথে প্রকট হয়ে বিচরণ করে বিভিন্ন ঘোষ উৎপন্ন করতে থাকে।

এখানে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে প্রাণ ও ছন্দ রশ্মির তীব্রতা যত বাড়তে থাকে, ততই সর্বত্র বিভিন্ন প্রকারের ধ্বনি তরঙ্গ উৎপন্ন হয়ে তীব্র হতে থাকে। পাঠক নিশ্চয়ই এই বিষয়টা বুঝে গেছেন যে এই বায়ু তত্ত্ব লোকপ্রচলিত হাওয়া (এয়ার) নয়। প্রায় সব দার্শনিকগণ এই বিষয়ে এটাই ভারী ভুল করেছেন যে তারা হাওয়াকেই বায়ু মহাভূত মনে করেছেন। পশ্চিমী জগতের বৈজ্ঞানিকরাও দার্শনিকদের আলোচনাতে বায়ু মহাভূতের মানে এয়ার গ্রহণ করার ভুল করেছেন।
প্রাণ রশ্মিগুলো মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির সাথে মিথুন করেই সৃষ্টির নির্মাণ করে। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রাণ রশ্মিগুলো পরস্পর তথা বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিও পরস্পর মিথুন তৈরি করে। ঋষি দয়ানন্দ সত্যার্থ প্রকাশের অষ্টম সমুল্লাসে লিখেছেন - "সবথেকে সূক্ষ্ম টুকরো অর্থাৎ যাকে খণ্ড করা যায় না, তার নাম পরমাণু, ষাট (৬০) টা পরমাণুর মিশ্রণের নাম অণু, দুটো অণুর একটা দ্বয়ণুক, এটা হল স্থূল বায়ু, তিনটা দ্বয়ণুকের নাম অগ্নি, চারটা দ্বয়ণুকের নাম জল, পাঁচটা দ্বয়ণুকের পৃথিবী অর্থাৎ (আচার্য অগ্নিব্রত নৈষ্ঠিক জীর মতে এখানে "অথবা" শব্দ হওয়া উচিত) তিনটা দ্বয়ণুকের ত্রসরেণু আর তার দ্বিগুণ হলে পৃথিবী আদি দৃশ্য পদার্থ হয়। ঋষি দয়ানন্দ যাকে পরমাণু বলেছেন, সেটা আসলে একটা প্রাণ/মরুত্/ছন্দ রশ্মির নাম। এমন ষাট (৬০) প্রকারের রশ্মি মিলিত হয়ে একটা অণু তৈরি করে আর দুটো অণু অর্থাৎ একশো বিশ (১২০) প্রকারের রশ্মি মিলিত হয়ে স্থূল বায়ুর অণুকে উৎপন্ন করে। প্রাণ রশ্মিগুলো মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির সাথে মিথুন করেই সৃষ্টির নির্মাণ করে। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রাণ রশ্মিগুলো পরস্পর তথা বিভিন্ন ছন্দ রশ্মিও পরস্পর মিথুন তৈরি করে। এইভাবে ৬০ প্রকারের প্রাণ রশ্মির যুগ্ম একটা অণু তথা ৬০ প্রকারের ছন্দ বা মরুত্ রশ্মির যুগ্ম অন্য অণুর নির্মাণ করে। এখানে দ্বিতীয় বিকল্প এটাও সম্ভব যে একটা অণুর মধ্যে ৩০ প্রকারের প্রাণ ও ৩০ প্রকারের মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির যুগ্ম হবে তথা এগুলোর থেকে ভিন্ন ৩০ প্রকারের প্রাণ ও ৩০ প্রকারের মরুত্ বা ছন্দ রশ্মির যুগ্ম দ্বিতীয় অণু হবে। যখন এই দুই অণুর মিথুন হয়, তখন বায়ু তত্ত্বের একটা অণু নির্মিত হয়। যেখানে  বায়ুকে স্থূল বায়ু বলে, যেখানে ত্রিষ্টুপ্ ছন্দ রশ্মিও বিদ্যমান হয়ে থাকে। এর পূর্বে সব রশ্মি আকাশ বা সূক্ষ্ম বায়ুর রূপেই হয়। এইভাবে বায়ুর একটা অণুর মধ্যে সর্বমোট ১২০ প্রকারের পরমাণু অর্থাৎ ছন্দ, মরুত্ ও প্রাণ রশ্মি বিদ্যমান থাকে। এইসবের গুচ্ছ স্বতন্ত্র বিচরণ করে একটা স্বতন্ত্র এককের সমান ব্যবহার করে। বায়ু তত্ত্ব যদিও বর্তমান বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যেকোনো কোয়ান্টা তথা মূলকণার থেকেও সূক্ষ্ম হয়, তবুও একে অণু নাম দেওয়াতে এটাই সংকেত পাওয়া যায় যে বায়ু তত্ত্ব একরস হয় না, বর্তমান যেকোনো টেকনিক দিয়ে তাকে যদিও অনুভূত করা যায় না আর তাই সাধারণত তাকে একরসবৎ বলতে বাধ্য হয়েছে।

বায়ু তত্ত্ব

অর্থাৎ দুটি সম্ভাবনার ক্ষেত্রেই মোট ১২০টি সূক্ষ্ম রশ্মি নিয়ে বায়ুর একটি অণু তৈরি হচ্ছে বলে লেখাটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


তথ্যসূত্রঃ

মহাভারত, আশ্ব.প., অনুগীতা পর্ব অধ্যায় - ৪২
মহাভারত শা.প., মোক্ষধর্মপর্ব, অধ্যায় - ১৮৩
জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ ৩.২৫২
মৈত্রায়ণী সংহিতা ২.৫.১
তাণ্ড্য মহাব্রাহ্মণ ১৮.৮.৭
শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৫.২.৫
শতপথ ব্রাহ্মণ ৮.৭.৩.১২)
সত্যার্থ প্রকাশ অষ্টম সমুল্লাস
বৈদিক রশ্মি বিজ্ঞানম্
Read More

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

জল তত্ত্ব

পঞ্চমহাভূতের দ্বিতীয় মহাভূত   জল  বৈদিক বাঙ্ময়ের মধ্যে একে প্রায়শঃ "আপঃ" নামে সম্বোধন করা হয়েছে। ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন তথা উপন...

Post Top Ad

ধন্যবাদ