প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন ভাষায় ভাষ্য, প্রকরণ গ্রন্থ এবং স্তোত্রাদি মিলিয়ে প্রায় ২০০ খানা গ্রন্থ শঙ্করের নামে প্রচলিত আছে।
Hindusim
Post Top Ad
25 September, 2026
আদি শঙ্করের রচনাবলি
প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন ভাষায় ভাষ্য, প্রকরণ গ্রন্থ এবং স্তোত্রাদি মিলিয়ে প্রায় ২০০ খানা গ্রন্থ শঙ্করের নামে প্রচলিত আছে।
24 September, 2026
অসুর কারা?
পরবর্তীকালে Indian Antiquary তে কীলহর্ণ সাহেবের সম্পাদিত একটি তাম্রশাসনের অনুলিপি দেখি। ১৮৮৯ খৃষ্টাব্দে কীলহর্ণ ঐ তাম্রশাসনটি সম্পাদনা করেন। তাতে লেখা আছে
'ও স্বস্তি শ্রীপ্রয়াগসমীপ-গঙ্গাতটবাসে-পরমভট্টারক-মহারাজাধিরাজ-পরমেশ্বর-শ্রীবিজয় পালদেব-পদানুধ্যাত-পরমভট্টারক-মহারাজাধিরাজ-পরমেশ্বর-শ্রীরাজ্যপালদেব-পাদানুধ্যাত-পর মভট্টারক-মহারাজাধিরাজ-পরমেশ্বর-শ্রীমন্ত্রিলোচনপালদেবঃ অসুরাভক বিষয়ে লেডুন্ডাকগ্রামে সুমপগতান রাজপুরুষান ব্রাহ্মণোত্তরাংশ।"
তাম্রশাসনটির তারিখ ১০৮৪ বিক্রমাব্দ। এর অর্থ হল পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ পরমেশ্বর রাজ্যপালদেবের পাদানুধ্যাত ত্রিলোচন-পাল প্রয়াগ সন্নিকটে গঙ্গাতীরে বাসকালে (অসুরাডক) বিষয়ান্তর্গত লেডুন্ডাক গ্রামে যে সমস্ত রাজপুরুষ এবং ব্রাহ্মণোত্তরগণ উপস্থিত হয়েছিলেন, তাঁদেরকে সংবাদ দেন। এখানে অসুরাডক শব্দটি লক্ষ্য করুন, এর অর্থ অসুররাজদের অধিকারভুক্ত। অর্থাৎ বিজয়পালদেব, রাজ্যপালদেব এবং ত্রিলোচনপালদেব প্রভৃতি অসুরবংশের রাজা ছিলেন। তাঁদের নিরীহ নামগুলি থেকে কি তাঁদেরকে পাতাল বা সমুদ্রগর্ভবাসী কোন অন্ধকার রাজ্যের বীভৎস কোন জীব বলে মনে হচ্ছে।
আসল কথা- অসুররা আমাদেরই মত মানুষ। ভারতেরই একটি সুপ্রাচীন জাতি। এই অসুরদেরই একটি শাখা ইরাণে গিয়ে বসবাস করেছিল। ইরাণীদের ধর্মগ্রন্থ আবেস্তাতে 'অহুর' শব্দটি অসুর শব্দেরই অপভ্রংশ। 'শব্দটি খুবই মর্যাদাসূচক। আহুর মাজদা তাঁদের পরমেশ্বরের নাম। বেদে ১০৫ বার অসুর শব্দের উল্লেখ আছে। তার মধ্যে ৯০ বারই ভাল অর্থে ব্যবহৃত। যেমন অসুরঃ অসু ক্ষেপণে শত্রুণ ইত্যসুরঃ। যারা শত্রুদের উপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে পটু তারা অসুর। কিংবা অসুন্ প্রাণান রাতি দদাতি ইত্যসুরঃ। যারা প্রাণদান করে, যাদের মধ্যে দুর্দম প্রাণশক্তির প্রকাশ দেখা যায়, সেই সমস্ত বলিষ্ঠ বীররাই অসুরপদবাচ্য। যাস্ক তার নির্ঘন্ট ও নিরুক্ত (৩।৮) গ্রন্থে বলেছেন যে অস্ ধাতু হতে অসুর শব্দটি নিষ্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে অস্ শব্দ যার অর্থ শ্বাসবায়ু-হতেও অসুর শব্দ নিষ্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে অসু শব্দ যার অর্থ শ্বাসবায়ু তা হতেও অসুর শব্দ নিষ্পন্ন হতে পারে।
বৈদিক যুগের গোড়ার দিকে যারাই শৌর্যে বীর্যে বড় হতেন, তাঁরাই অসুর উপাধিতে ভূষিত হতেন। রুদ্র, মরুৎ, দৌৗ, বরুণ, ত্বষ্টা, অগ্নি, বায়ু, পুষা, সবিতা, পর্জন্য এঁদের অলৌকক শক্তি ছিল বলে এঁদেরকে বৈদিক ঋষিরা অসুর বলতেন। যথা-
মরুৎ (ঋগ্বেদ)
তে জঙিরে দিব ঋদাস উক্ষণো রুদ্রস্য মর্যাসুরাঃ অরেপসা।
রুদ্র (ঋগ্বেদ ৫/৪২/২১) যক্ষবামহে সৌমনসায় রুদ্রম্ নমোভির্দেবং অসুরুৎ দেবস্য।
দৌৗ (ঋগ্বেদ ) ইন্দ্রায় হি দৌরসুরো ইত্যাদি
ইন্দ্র (ঋগ্বেদ ) বৃহচ্ছবা অসুরো বহুনা কৃতঃ পুরো হরিভ্যাং বৃষভো রথো হি যা।
বরুণ (ঋগ্বেদ) ত্বং বিশ্বেষাং বরুনাসি রাজা যে চাদেবা অসুর যে চ মত্তঃ।
অগ্নি (ঋগ্বেদ ৫/১২/১) প্রাহ্ময়ে বৃহতে যজ্ঞিয়ায় ঋতস্য অসুরায় মন্ম।
সেযুগে ধর্মীয় আচার আচরণকে কেন্দ্র করে ভারতীয়রা দুটি ভাগে ভাগ হয়ে গেছলেন। একদল বেদ মানতেন। সেই বেদপন্থীদের মধ্যে ভূক্ত অগ্নিপূজার প্রচলন করেন। তাঁরা যজ্ঞ নিয়ে মেতে রইলেন। এঁদেরই নাম হল- দেব। শতপথ ব্রাহ্মণে তাই দেবের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যজ্ঞেন বৈ দেবাঃ (১/৫/৫/২৬) , আর যাঁরা যজ্ঞ করতেন না, তাঁদের নাম হয়ে গেল অসুর। প্রথম প্রথম দেব ও অসুরের মধ্যে খুব সৌভ্রাতৃত্ব ছিল। কিন্তু পরে খুব শত্রুতা দেখা দেয়, অনেক বড় বড় যুদ্ধ হয়। দেবতাদের নেতা ইন্দ্র বৃত্রাসুরকে বধ করেন। শত্রুতা সুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে 'অসুর' শব্দটি খারাপ অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকলো যেমন অসুরাঃ রাক্ষসাঃ দেবনিন্দকাঃ ইত্যাদি। ১০৫ বারের মধ্যে ৯০ বার বাদ দিলে বাকী ১৫ বার ঐ রকম খারাপ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই থেকেই কল্পনা-সম্রাট পুরাণকার থেকে আরম্ভ করে ঠাকুরমার ঝুলির রচয়িতার হাতে পড়ে অসুররা এক ভীতিপ্রদ অমানুষের পর্যায়ে নেমে গেল।
বৈদিক যুগের শেষভাগে যজ্ঞবাদী আর্যদের সঙ্গে অসুরদের বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। অসুরজাতির অধিকাংশ ভারত ত্যাগ করে পারস্য ও তুর্কীস্থানে গিয়ে বাস করতে থাকেন। বাকী যাঁরা রইলেন, তাঁরা প্রয়াগ, ছোটনাগপুর, তিব্বত বা কামরূপের দিকে চলে যান। পূর্বে যে তাম্রশাসনের উল্লেখ করেছি, সেই তাম্রশাসন বর্ণিত প্রয়াগের ত্রিলোচনপালদেব প্রভৃতিরা এই অসুর জাতিরই শাখা। ছোটনাগপুরে এখনও একটি জাতির সন্ধান পাওয়া যায়
- সংখ্যায় অল্প হলেও এরা অসুর জাতি নামে পরিচিত। এরাও তান্ডপ্রিয়, ছোটনাগপুরের তাম্রখনিতে কাজ করে। প্রত্নতত্ত্ববিদ্রা এদেরকে সেই প্রাচীনকালের বিধ্বস্ত ও বিতাড়িত অসুরদেরই বংশধর বলে মনে করেন।
ওদিকে, অসুরদের যে বড় দলটি ভারতের বাইরে গেলেন, এখন হতেও হাজার বছর পূর্বে তারাই ব্যাবিলনের শতক্রোশ উত্তর পশ্চিমে এক সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। এই সাম্রাজ্যের নাম হয় 'অসুর' বা 'আসীরিয়া'। টাইগ্রীস নদীর উপকূলে এঁদের যে রাজধানী স্থাপিত হয় তার নাম হয়- অসুর। আসীরিয়দের এক গ্রাম্য দেবতার নামও হয় অসুর। আসিরীয়দের সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রাম্য দেবতা জাতীয় দেবতায়। পরিণত হয়। আসিরীয় সভ্যতা পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতার একটি। ব্যাবিলনের কন্দর এরিডুতে যে দেবতার পূজা হত, তাঁরও নাম ছিল অসরি (Asari)। এই নাম যে অসুর শব্দের অপভ্রংশ তা ধারণা করা চলে। ব্যাবলনীয়দের রাজন্যবর্গের নামমালার মধ্যে অসরু (Asuru), অসুর-নসির-পাল (Asumasipal), অসুর-বনিপাল (Asurbanipal) নামগুলি পাওয়া যায়। মোট কথা, যাদের বাসস্থানের নাম আসিরীয় বা অসুর, রাজাদের নাম অসুর উপাধিযুক্ত এবং উপাস্য দেবতার নাম অসরি বা অসুর তারাই অসুর নামে অভিহিত।
ভারতীয় অসুরগণ দুর্গ নির্মাণে পটু ছিলেন। বেদে তার বহু প্রমাণ পাই। শম্বর অসুরের ছিল ১০টি দুর্গ (ঋগ্বেদ ১/১৩০/৭)। বর্তী অসুরের লক্ষ লক্ষ যোদ্ধা ছিল, তিনি নিজেও ছিলেন দুর্দান্ত, বীর (৬১০/১৫১/৩)। পিক্ অসুরেরও বড় বেল্লা ছিল। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলে দেখি ইন্দ্র পিপরুর কেল্লা নষ্ট করে দিয়েছিলেন (১০/১৩৮/৩)।
এদিকে আসিরীয় অসুরদের যে পরিচয় পাই, তাতে তারাও যে যুদ্ধবিদ্যায়-পটু ছিলেন তারও ইতিহাস সম্মত প্রমাণ আছে। তাঁদেরও দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল। কালক্রমে বাহুবলে এশিয়া মাইনর হতে ককেশাস পর্বত পর্যন্ত নিজেদের অধিকার, বিস্তার করেছিলেন।
ভারতের অসুরজাতি এবং আসিরীয় অসুরজাতি যে একই জাতি তা বলবার আরও তিনটি কারণ আছে-
(ক) আসিরীয়রা দুরকম শ্মশান তৈরী করতেন। একটি ছিল তাঁদের তাঁবুর আকৃতি আর একটি ডিম্বাকৃতি। শতপথ ব্রাহ্মণে দেখি দেবতাদের শশ্মশান ছিল চতুরস্রকার আর অসুরদের শ্মশান ছিল গোলাকৃতি। যা আসূর্য প্রাচ্যাস্তদ্ যে ত্বৎ পরিমণ্ডলানি শশ্মশানানি কুর্বতে। (১৩/৪/১/২)
(খ) দ্বিতীয়তঃ আসীরীয় অসুররা মাড়ুকের প্রতীক পূজা করতেন। এই প্রতীক বাগাকৃতি। Strom God এর পূজাও এদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। এদিকে ভারতীয় অসুররাও ছিলেন রুদ্রোপাসক। বেদে রুদ্রও Storm God রূপে চিত্রিত। বাণাসুরের পতাকায় যে 'বাণ' প্রতীক থাকতো, তার বর্ণনা আমরা মহাভারতে পাই।
(গ) তৃতীয়তঃ, ভারতীয় অসুররা মায়া বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। যার জন্য তাঁদেরকে 'মায়াবী বলা হয়। আসিরীয় অসুরগণও যে অলৌকিক মায়া বিদ্যার অনুশীলন করতেন তা ১৮৮৩ খৃষ্টাব্দে G. Smith Assyrian Discoveries নামক গ্রন্থে বহু গবেষণামূলক তথ্যের দ্বারা প্রমাণ করেছেন। তিনি আসিরীয়দের কতকগুলি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেবদেবীর মূর্তিও উদ্ধার করেছেন। এগুলি British Museum এর Bab. Room (No. 996-1009) রক্ষিত আছে।
ঐ সমস্ত বৈদিক, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের বলে আমরা কি এখন তাহলে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে অসুররা ভারতেরই একটি প্রাচীন জাতি, ভারতের আর্য জাতির বংশধর, তাঁরা আমাদেরই মত মনুষ্যদেহধারী এবং আসিরীয়রাই সেই অসুরজাতির বংশধর।
ইরাণ নামের উৎপত্তি
পারস্যের আর একটি প্রাচীন নাম ইরাণ। ইরাণদেশের অধিবাসীরা 'ঐরাণ' নামেও পরিচিত। ইরাণ ও ঐরাণ- এই দুটি শব্দের মূল অনুসন্ধান করলে আমরা পাই যে চন্দ্রবংশে ইড়ার গর্ভে পুরুরবার জন্ম হয়। তাঁর বংশধরগণ অর্থাৎ ইড়ার পুত্র- এই অর্থে 'ঐড়' নামে অভিহিত। এই ঐড়গণের বাসস্থান বলে ঐড়াণ বা ঐরাণ নামের উৎপত্তি। সূর্যবংশীয়দের সঙ্গে চন্দ্রবংশীয়দের বিবাদের ফলেই যে তাদেরকে এদেশ ত্যাগ করতে হয় একথাও আমাদের ধর্মশাস্ত্রে বারবার উল্লেখ আছে। তুরাণ ও ইরাণদের যুদ্ধ আসলে চন্দ্রবংশীয় ও সূর্যবংশীয়দেরই যুদ্ধ। সুর ও সুরাণ শব্দের অপভ্রংশে যে তুর ও তুরাণ শব্দের উৎপত্তি - একথা ভাষাতত্ত্ববিদমাত্রেই স্বীকার করতে বাধ্য। বেদ ও জেন্দ অভেস্তায় বর্ণিত দেবদেবীদের নাম, বীরগণের নাম ও উপাখ্যান, যজ্ঞবিধি ধর্ম কর্ম আচার ব্যবহার সবকিছু আলোচনা করলে সব বিষয়ে সাদৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। অনেক ঘটনার এমন হবহু মিল দেখা যায় যে সবিস্ময়ে ভাবতে হয়- একটি অপরটির ভাষান্তরে অনুবাদ মাত্র কিনা। কর্ণেল টডের মত ভারতবিদ্বেষী লোকও প্রাচীন মিডিয়া রাজ্যের অভ্যুদয় বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একস্থানে লিখেছেন প্রাচীন ব্রহ্মাবর্তবর্ষের রাজা অজমেধের পাঁচটি পুত্র ছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন ভারতবর্ষ ত্যাগ করে উত্তর পশ্চিমে চলে যান। তাঁরা সেখানে নূতন রাজ্য স্থাপন করেন এবং পিতৃস্মৃতি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তাঁদের পদবী মেধ এবং তাঁদের বাসস্থানের নাম রাখেন মেধদেশ- এই মেধদেশই চলতি ভাষায় মেধিয়া হতে ক্রমে Media নামের উৎপত্তি। এইভাবে তিনি পারসীদের সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন The country from which Persians are said to have come, can no other be than the North-West Part of Ancient India.'
পাটীগণিতের ইতিহাস
ভারতবর্ষ উচ্চাঙ্গের আধ্যাত্মিক তত্ত্বালোচনায় যথেষ্ট প্রতিভা ও উৎসাহের পরিচয় দিয়েছে কিন্তু তাই বলে বাস্তবকে ভোলে নি। যে আরুণি শ্বেতকেতুকে বলেছিলেন, 'তত্ত্বমসি শ্বেতকেতো'- তিনিই তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন- অন্ন-ব্রহ্মঃ। পাটীগণিত, বীজগণিত (ব্যক্ত ও অব্যক্ত গণিত) জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, জ্যোতিষ, রসায়ণ, ফলিত রসায়ণ ও চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রভৃতি বিজ্ঞানের সব বিভাগেই ভারতীয়রা আশ্চর্যজনক উন্নতি লাভ করেছিলেন।
বীজগণিতের ইতিহাস
এরূপ প্রবাদ আছে যে ভাস্করাচার্য তাঁর বিধবা কন্যা লীলাবতীকে পাটীগণিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত শিরোমণির পাটীগণিত অংশ লিখেছিলেন বলে তার নাম লীলাবতী। এ প্রবাদ সত্য নয়। লীলাবতীতে যেমন 'অয়ি বালে লীলাবতী'- হে বালিকে লীলাবতী বলে সম্বোদন রয়েছে তেমন 'ব্রুহি সখে' ও ব্রুহি কান্তে' সখা ও কান্তা বলেও সম্বোধন রয়েছে। নিজের মেয়েকে কেউ সখা ও কান্তা বলে সম্বোধন করতে পারে না। আমার মনে হয় লীলাবতী বলতে এখানে কোন মহিলাকেই বোঝায় না, লীলাবতী শব্দের অর্থ গুণসম্পন্না। এই অর্থে সিদ্ধান্ত শিরোমণির গোড়ায় লীলাবতী শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, 'লালিত্য লীলাবতী' মাধুর্য গুণসম্পন্না। নিজের পুস্তককে নিজেই গুণসম্পন্ন বলা যুক্তিবিরুদ্ধ- এই আপত্তি টিকতে পারে না, কারণ ভাস্করাচার্য সিদ্ধান্ত শিরোমণির গোলাধ্যায়ের শেষেও লিখেছেন 'কবি ভাস্কর পণ্ডিতগণের সন্তোষপ্রদ, সুব্যক্ত, সুযৌক্তিক বাক্যবহুল, সহজবোধ্য, কুবুদ্ধি বিনাশক এই সিদ্ধান্ত গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন।'
হিন্দু অর্থ
আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতই শুধু প্রাণধারণের ও দিন যাপনের গ্লানিতে কাটলেও তবে বংশগত ঐতিহ্য এবং জন্মগত সংস্কারের বশে হিন্দুধর্ম এবং সংস্কৃতির উপর প্রগাঢ় শ্রদ্ধা পোষণ করি। হিন্দু ভারতবর্ষে হিন্দু হয়ে জন্মেছি বলে যথেষ্ট গৌরববোধ করি। ছাত্রজীবন থেকেই একটি প্রশ্ন আমার মনে বার বার পীড়া দেয়, সেটি ঐ হিন্দু শব্দটি নিয়ে। ইতিহাসে পড়েছি আমাদের পূর্বপুরুষরা সিন্ধু নদীর তীরে বাস করতেন বলে আমাদেরকে হিন্দু বলা হয় এবং মুসলমানরা নাকি হিন্দু অর্থে কাফের এবং কালো আর ইংরাজরা নাকি Heathen এবং Black Native অর্থে অবজ্ঞা ভরেই আমাদের 'হিন্দু' অভিধা দিয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন বিদেশীদের প্রদত্ত ঐ কদর্থব্যঞ্জক শব্দটি আমরা আবহমানকাল ধরে কেন বহন করে আসছি? সিন্ধু নদ থেকেই যদি হিন্দু বা হিন্দু ধর্মের নামকরণ হয়ে থাকে, বিদেশীদের নামকরণ পূর্বে সিন্ধুতীরবাসীরা নিজেদেরকে কি নামে এবং কোন্ ধর্মাবলম্বী বলে পরিচয় দিত? নিশ্চয় আত্মধর্ম এবং আত্মজাতির পরিচয় দানের জন্য তারা আদিতে একটা নাম ব্যবহার করতেন, সেটি কি? কেনই বা এবং কখন তাঁরা সেই আদিনাম পরিত্যাগ করে পরদত্ত নাম দ্বারা নিজেদের পরিচয় দিতে আরম্ভ করলেন? হিন্দুধর্মের প্রচারক কে? প্রতিষ্ঠাতাই বা কে? সংস্কৃতে কি হিন্দু শব্দ আছে? আমরা জানি ভৌগোলিক স্থান বা বস্তু যথা দেশ নদী সাগর পর্বত প্রভৃতি নাম হতে ধর্মের নামকরণ হয়ে থাকে যেমন শিব হতে শৈব, সূর্য হতে সৌর, গণপতি হতে গাণপত্য, বিষ্ণু হতে বৈষ্ণব, বুদ্ধ হতে বৌদ্ধ খ্রীষ্ট হতে খ্রীষ্টান ইত্যাদি।
এমতাবস্থায় হিন্দুধর্মের বেলাতেই কেবল উপাস্য দেবতা বা ধর্মপ্রবর্তককে বাদ দিয়ে একটা নদী বা পরজাতিদত্ত কদর্থব্যঞ্জক একটা শব্দকে বেছে নেওয়া হল এটি কেমন করে সম্ভব? আমি ইতিপূর্বে এই প্রশ্ন অনেক জ্ঞানী গুণীকেই করেছি, কিন্তু কোন সদুত্তর পাই নি। তাই হিন্দু শব্দের ব্যুৎপত্তি জানার আগ্রহ আমার বহুদিনের।
প্রথমেই জেনে নিশ্চিত হোন যে পরপ্রদত্ত কদর্থব্যঞ্জক শব্দই আমরা বহন করছি না। হিন্দু শব্দ সংস্কৃতে আছে এবং বৈদিক যুগ থেকে আমরা নিজেদের হিন্দু নাম গূঢ় এবং গভীর অর্থেই ব্যবহার করে আসছি। আমাদের হিন্দু নামের কারণ
আসিন্ধুসিন্ধুপর্যন্ত্য যস্য ভারতভূমিকা
পিতৃভূঃ পুণ্যভূশ্চৈব স বৈ হিন্দুরিতিস্মৃতঃ।
অর্থাৎ সিন্ধুদেশ থেকে আরম্ভ করে দক্ষিণে সিন্ধু অর্থাৎ সমুদ্র পর্যন্ত পৃথিবীর তাবৎ পুণ্য সংস্কার, পুণ্য আচার, পুণ্য অনুষ্ঠান, পুণ্য জ্ঞানের বিমল ধারা যেখানে পিতৃভূঃ অর্থাৎ জন্মগ্রহণ করেছে সেই পাবন ক্ষেত্রে আমরা বাস করি বলে আমদের পিতৃপুরুষরা নিজেদেরকে হিন্দু নামে অভিহিত করতেন। হিন্দু এবং আর্য শব্দ সমার্থক। বৈদিক যুগে এই পুণ্য ভূখণ্ডের অধিবাসীরা নিজেদেরকে আর্য বলে পরিচয় দিলেও এবং আর্য শব্দটি তাঁদের কাছে অধিকতর প্রিয় হলেও মনে রাখতে হবে ভারতবর্ষে বৈদিক যুগ এবং বেদ প্রকট হওয়ার পূর্বেও মনুষ্যজাতির বাস ছিল। তাঁরাই আমাদের পূর্বপুরুষ। তাঁরাই হিন্দু। বৈদিক যুগে আর্যদের যে শাখাটি সম্প্রদায়গত বিরোধের জন্য ইরাণে চলে যান, তাঁরা তাঁদের এখানকার জাতিদেরকে হিন্দুই বলতেন। আবার এখানকার অধিবাসীরা বিদেশবাসী জ্ঞাতি ভাইদের বাসস্থানকে আর্যস্থান বলতেন- ইরাণ < ঐড়ান < এরিয়ান < আর্যস্থান। এখন যাঁদেরকে আমরা পারসিক বলি তাঁরা ঐ ঐড়ান বা আর্যস্থানের অধিবাসী।
প্রাচীন পারস্য ভাষায় হপ্তহিন্দু কথাটি রয়েছে। এই হপ্তহিন্দু বেদোক্ত 'সপ্ত সিন্ধু'। প্রাচীন পারসিকরা 'স' উচ্চারণ করতে পারতেন না, তাঁদের ভাষায় 'স' এর উচ্চারণ 'হ'। এজন্য তাঁরা সোমকে হোম, সিন্ধুকে হিন্দু, সপ্তকে হপ্ত, স্বর (স্বর্গ) কে হর্ বলতেন। যে কারণে সেই সুপ্রাচীন যুগে আমাদের আদি পূর্বপুরুষরা ইরাণকে বলতেন আর্যস্থান, ঠিক সেই একই কারণে তাঁরাও পূর্বস্মৃতির স্মারক হিসাবে সিন্ধুনদ হতে সমুদ্র পর্যন্ত মূল ভূখণ্ডের অধিবাসী অর্থাৎ আমাদেরকে হিন্দু বলতেন।
ঐ একইভাবে পারসিকদের হাতে হেন্দ> ইন্দাস ইংরাজদের মুখে ইন্ডিয়া এই নামকরণ হয়েছে। কাজেই হিন্দু বা ইন্ডিয়ান বললে তার মধ্যে আমরা অগৌরবের কিছু দেখি না। পারসিক ভাষাতেও হিন্দু শব্দের কোন দোষাবহ অর্থ নাই।
সত্য বটে, F. Streingah Ph D প্রণীত A comprehensive Persian English Dictionary (ইংরাজী পারসিক অভিধান) দেখলে সেখানে হিন্দু শব্দে কৃষ্ণবর্ণ, ভূতা, ক্রীতদাস, পৌত্তলিক, ঈশ্বর বিশ্বাসহীন ইত্যাদি অর্থ পাওয়া যাবে। কিন্তু একটু বিচার বালেই বুঝা যায়, পারস্য ভাষায় কোন ধাতুর্থানুসারে, ব্যুৎপত্তি অর্থে হিন্দু শব্দ নিষ্পন্ন নয়, সাহেব বর্ণিত ঐরকম কোন অর্থও হয় না। পারসিক শব্দে 'হিন্দব' বলে একটি শব্দ আছে কিন্তু তা গৌরব ও সম্মান জ্ঞাপক। 'হন্দ' বলে একটি শব্দ হিব্রুতেও আছে। হন্ন্দ শব্দের অর্থ তেজ ও বিক্রম প্রকাশক। হিরু ভাষার হনন্দ শব্দই পুশতু ভাষায় হন্দ রূপ ধারণ করে। অতএব হন্দ হন্দু হিন্দু। হন্দু হতেই হিন্দু শব্দের উদ্ভব হয়েছে।
কেউ কেউ বলেন আর্যগণ হিমালয় হতে বিন্দু সরোবরের মধ্যবর্তী প্রদেশে বাস করতেন। সেজন্য হিমালয়ের আদ্য অক্ষর 'হি' এবং বিন্দুর শেষ অক্ষর 'ন্দু' উভয়কে মিলিয়ে তাঁরা নিজেদেরকে হিন্দু বলে পরিচয় দিতেন। আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যে ভাবে গূঢ় ব্যঞ্জনাময় সংস্কৃত শ্লোকাদি রচনার শৈলী প্রচলিত ছিল, তাতে আমরা ঐ যুক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারি না।
প্রত্যেকেই জানেন, উচ্চারণের বিকৃতিতে সাধারণ জনতার মুখে অনেক মূল ভাষায় একটি লোকায়ত রূপ নেয়, যেমন ধরুন সংস্কৃত হতে তৎকালীন জনতার ভাষা পালি ভাষার জন্ম হয়েছে। তেমনি পূর্বে গান্ধার দেশে (বর্তমান যার নাম আফগানিস্থান) সেখানে লোকে মুখে মুখে উচ্চারণের দোষে সংস্কৃত হতে একটি নূতন ভাষা রূপ নেয়। এর নাম বাতারি। এই ভাষার দুটি আঞ্চলিক রূপ ছিল, একটি বিশ্ববিখ্যাত সংস্কৃত আর একটি অবেস্তান। সংস্কৃতের 'স' অবেস্তান ভাষাতে উচ্চারিত হত 'হ'। অবেস্তান ভাষায় সিন্ধু মানে স্বচ্ছ জলের দেশ। পুশতু ভাষাতেও সিন্দ মানে বহু নদী। ভারতবর্ষ নদীমাতৃক এখানে বহু নদী হিন্দু নামের এটাও একটা কারণ। বিখ্যাত আফগান ভাষাবিদ, বাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক শ্রী ফল রাবচি পালবাক গবেষণা করে এই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তবে কেউ যদি বিদ্বেষ বশে কোন জাতিকে তাদের ভাষায় কদর্থে অভিহিত করে তাতে মূল নামে কোন কদর্থ প্রকাশ পায় না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, ম্যাকলে (Macanlay) সাহেব তো বাঙালী জাতির অনেক নিন্দা করেছেন, এজন্য কি বাঙালী জাতি দূষিত হয়েছে। মুসলমান রাজত্বের সময় মুসলমানদের গ্রন্থে বা ইংরেজদের রাজত্বের সময় ইংরেজদের গ্রন্থে তারা যদি অন্ধ বিদ্বেষ এবং হিংসা বশে হিন্দু অর্থে Heathen বা কাফের বলে গালি দিয়ে থাকে সেটা তাদেরই নীচতার পরিচয়। সেজন্য হিন্দু শব্দটিতে কোনভাবেই গ্লানি স্পর্শ করে না।
ম্যাকলে সাহেবের সগোত্রদেরকে Tory এবং মুসলমানদের 'ফেরেস্তা' এই শব্দের অর্থ জিজ্ঞেস করলেই মুখের মত জবাব দেওয়া যায়। Torry মূল Irish শব্দ Toraidhe শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ robber বা ডাকাত। কিন্তু ইংরেজরা কি বিজয়ী Irish জাতিপ্রদত্ত ঐ অর্থের জন্য Torry শব্দটিতে দূষিত মনে করেন। ইংলণ্ডের Torry বা Conservative Party ইংলণ্ডের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদেরকে নিয়েই গঠিত। ঠিক এমনি ভাবে সংস্কৃত প্রেত শব্দটি আরবীতে ফেরেস্তা শব্দে পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা খারাপ অর্থে প্রেত শব্দ ব্যবহার করলেও মুসলমান ভাষায় ফেরেস্তা শব্দ মর্যাদাসূচক। আন্তর্জাতিক ধ্বনি পরিবর্তনের নিয়মানুসারে একই শব্দ ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কিরূপ রূপ এবং অর্থ পরিবর্তন করে তার কিছু প্রমাণ দিচ্ছি। প্রেত শব্দ আগেই বলেছি আমাদের কাছে নিন্দাবাচক হলেও মুসলমানদের কাছে মর্যাদাসূচক 'ফেরেস্তা', বৌদ্ধদের কাছে 'পেরেক' ইউরোপীয়দের কাছে 'Priest'। 'Priest' শব্দটি আবার 'Preost এই ফরাসী শব্দ থেকে এসেছে। পুরোহিত শব্দটি আমাদের কাছে কতই না মর্যাদাসূচক। কিন্তু এই শব্দটি অন্য ভাষায় ধধ্বনি পরিবর্তন করে কি দশা লাভ করেছে দেখুন Purohita <Fulohida <Folohia<Follosi<Follis< ইংরাজীতে Foolish! দুর্ভাগ্য যে, সম্প্রদায়গত এবং জাতিগত বিদ্বেষের ফলে এক জাতি অন্য জাতির নানা শব্দ নানা অর্থে এইভাবে কুৎসা করে থাকে। আমাদের দেশে এমন কি বৈদিক যুগেও দেব এবং অসুর জাতি একই আর্যজাতির শাখা হলেও উভয়ের মধ্যে যখন দ্বন্দ্ব এবং দ্বেষ তুঙ্গে উঠেছিল তখন অসুর শব্দে কদর্থ আরোপ করেছিলেন। এইভাবেই এক ভাষায় উল্লাস অন্য ভাষায় alas, এক ভাষায় হল-হলা অন্য ভাষায় হলাহল, এক ভাষায় হর হর অন্য ভাষায় horror, এক ভাষায় হরিবোল অন্য ভাষায় horrible এ পরিণত হয়েছে। কাজেই হিন্দু শব্দে বিদেশীরা যে অর্থই আরোপ করুক না কেন আমাদের কাছে হিন্দু শব্দ পরম আদরণীয় শব্দ।
হিন্দু কোন ধর্ম নয়। এজন্য এর কোন প্রতিষ্ঠাতা নাই। হিন্দু কোন জাতি নয়, হিন্দু বলতে কোন সম্প্রদায়কেও বোঝায় না। হিন্দু শব্দের অর্থ উদার বিশ্বজনীনতা, হিন্দু শব্দ সংস্কৃতি বাচক। বেদের মতই এটিকে অপৌরুষেয় শব্দ বলা চলে। প্রাচীন ব্রহ্মাবর্তবর্ষ ভারতবর্ষ তথা হিন্দুস্থান নামক বিরাট ভূখণ্ডে আর্য বৌদ্ধ শৈব গাণপত্য সৌর খ্রীষ্টান, এমন কি মুসলমান প্রভৃতি সকল অধিবাসীরাই হিন্দু নামের যোগ্য
হীনতা বর্জনকারী মানব নিচয়।
হিন্দু বলে আপনার দেয় পরিচয়।
যিনিই হীনতা ত্যাগ করতে পারবেন তিনিই হিন্দু। প্রাচীন মেরুতন্ত্রানুসারে এর ধাতুগত অর্থই হল
হীনঞ্চ দূষয়ত্যেব হিন্দুরিত্যুচত্যে প্রিয়ে।
ব্যাকরণের নিয়মানুসারে হীন দুষ-ডু-যে নিপাতনে। নিপাতনে সিদ্ধ এই পদ পৃযোদরদিত্বাৎ সাধুঃ। রামকোষ নামক প্রাচীন অভিধানেও হিন্দু শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,
হিন্দুদুষ্টনূহঃ প্রোক্তোহনার্যনীতি বিদূষকঃ।
সদ্ধর্ম-পালকো বিদ্বান্ শ্রৌতধর্মপরায়ণঃ।।
অর্থাৎ দুষ্টের দণ্ডদাতা, অনার্য নীতির বিরোধী সদ্ধর্মের পালক ব্যক্তিই হিন্দু।
তথ্যসূত্রঃ তপভুমি নর্মদা
বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট
আদি শঙ্করের রচনাবলি
প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন ভাষায় ভাষ্য, প্রকরণ গ্রন্থ এবং স্তোত্রাদি মিলিয়ে প্রায় ২০০ খানা গ্রন্থ শঙ্করের নামে প্রচলিত আছে। তার ...