পুরুষ সূক্ত - ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম্মতত্ত্ব

ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান, ধর্ম গ্রন্থ কি , হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়, ইসলাম খ্রীষ্ট মত বিষয়ে তত্ত্ব ও সনাতন ধর্ম নিয়ে আলোচনা

धर्म मानव मात्र का एक है, मानवों के धर्म अलग अलग नहीं होते-Theology

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

Post Top Ad

স্বাগতম

12 October, 2016

পুরুষ সূক্ত

देवता: पुरुषः ऋषि: नारायणः छन्द: निचृदनुष्टुप् स्वर: गान्धारः
বৈদান্তিকেরা পুরুষসূক্তকে উপাসনাজ্ঞানভক্তিধর্ম ও কর্মের রূপক হিসেবে গ্রহণ করেন। পুরুষের ধারণাটি সাংখ্য দর্শনেও পাওয়া যায়।

ঋগ্বেদ 

১০মন্ডল ৯০সূক্ত কে পুরুষ সুক্ত বলা হয়
পুরুষসূক্তের উল্লেখ পাওয়া যায় অথর্ববেদ (১৯।৬), সামবেদ (৬।৪), যজুর্বেদ (বাজসনেয়ী ৩১।১-৬) ও তৈত্তিরীয় আরণ্যকের (৩।১২,১৩) মতো বৈদিক গ্রন্থে। শতপথ ব্রাহ্মণতৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণশ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ্ ও মুদগল উপনিষদে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক হিন্দুধর্মে গায়ত্রী মন্ত্রের মতো যে অল্প কয়েকটি ঋগ্বৈদিক স্তোত্র প্রচলিত আছে, তার মধ্যে এটি একটি। বাজসনেয়ী সংহিতা (৩১। ১-৬), সামবেদ সংহিতা (৬।৪) ও অথর্ববেদ সংহিতায় (১৯।৬) এই সূক্তের অর্থব্যাখ্যা সহ উল্লেখ পাওয়া যায়। পৌরাণিক সাহিত্যের মধ্যে ভাগবত পুরাণ (২।৫।৩৫ থেকে ২।৬।১-২৯) ও মহাভারতে (মক্ষধর্মপর্ব ৩৫১ ও ৩৫২) এই শ্লোকের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।পুরুষসূক্তে ব্রহ্মাণ্ডের আধ্যাত্মিক একত্ব বর্ণিত হয়েছে। এই স্তোত্রে পুরুষ বা পরব্রহ্মের স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাকে একাধারে সৃষ্ট জগতের বোধগম্য ও অনধিগম্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরুষসূক্ত অনুযায়ী, এই পুরুষের থেকেই মূল ক্রিয়ামূলক ইচ্ছাশক্তির (যাকে বিশ্বকর্মাহিরণ্যগর্ভ বা প্রজাপতি মনে করা হয়) উদ্ভব হয়। এই ইচ্ছাশক্তিই মহাবিশ্ব ও মহাকালের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করে।পুরুষসূক্তের সপ্তম শ্লোকটি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখায়।

পুরুষ

সূক্তের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্লোকে পুরুষের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাকে জগতের সকল চৈতন্যময় জীব ও জড় বস্তুর মধ্যে অন্তর্নিহিত এক সত্ত্বা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কাব্যিক ভাষায় তার এক হাজার মাথা, এক হাজার হাত ও এক হাজার পায়ের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে এই বিশ্বাস স্বরূপ নিয়েও তিনি মাত্র দশ আঙুল পরিমিত স্থানে জগতকে আবদ্ধ করে আছেন। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল আবির্ভূত সত্ত্বাই পুরুষ স্বয়ং। আরও বলা হয়েছে যে, তিনি তার সৃষ্টিরও বাইরে যেতে পারেন। সাকার রূপে পুরুষের বিশালত্ব এবং মনের অধিগম্য ক্ষেত্রের বাইরে তার অবস্থানকে সর্বেশ্বরবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। সবশেষে এই পুরুষের গৌরব বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তার গৌরব এই সূক্তে উল্লিখিত গৌরবের চেয়ে অনেক বেশি।

সৃষ্টিতত্ত্ব

পুরুষসূক্তের পঞ্চম থেকে পঞ্চদশ শ্লোকে ঋগ্বেদের সৃষ্টিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সূক্ত অনুসারে, পুরুষের বিরাট নামক বিশ্বরূপ হল সৃষ্টির উৎস। বিরাটের মধ্যে সর্বব্যাপী জ্ঞানের আবির্ভাব ঘটে এবং বিরাট থেকে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। শেষের দিকের শ্লোকগুলিতে বলা হয়েছে, পুরুষ নিজেকে আহুতি দিয়ে পক্ষী, বন্য ও গবাদি পশু, তিন বেদ, মন্ত্রের ছন্দ সৃষ্টি করেন। তার মুখ, বাহু, জঙ্ঘা ও পা থেকে চার বর্ণের জন্ম হয়। পুরুষের মন থেকে চন্দ্র ও চোখ থেকে সূর্যের জন্ম হয়। তার মুখ ও নিঃশ্বাস থেকে ইন্দ্র ও অগ্নির জন্ম হয়। তার নাভি থেকে আকাশ, মাথা থেকে স্বর্গ, পা থেকে পৃথিবী ও কান থেকে অন্তরীক্ষের জন্ম হয়। এই সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে মানুষ, জাগতিক ও মহাজাগতিক সকল সত্ত্বার মধ্যে একত্ব স্থাপিত হয়। কারণ, সবই সেই একক সত্ত্বা পুরুষের অংশসম্ভূত।

যজ্ঞ

পুরুষসূক্তে বলা হয়েছে, পুরুষের কৃত যজ্ঞের মাধ্যমে এবং যজ্ঞ থেকে জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। এই আদি যজ্ঞ থেকেই যাবতীয় সৃষ্টি রূপ ধারণ করেছে। সপ্তদশ শ্লোকে বলা হয়েছে যে, এই আদি যজ্ঞ থেকেই যজ্ঞের ধারণার উৎপত্তি হয়েছে। শেষ শ্লোকগুলিতে সকল সৃষ্টির আদিশক্তি রূপে যজ্ঞের গৌরব ঘোষিত হয়েছে।

Search Results

Web results

ঋগ্বেদ

 ১০।৯০- পুরুষ সুক্ত
स॒हस्र॑शीर्षा॒ पुरु॑षः सहस्रा॒क्षः स॒हस्र॑पात् ।
 स भूमिं॑ वि॒श्वतो॑ वृ॒त्वात्य॑तिष्ठद्दशाङ्गु॒लम् ॥
     সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ।
    স ভূমিং বিশ্বতো বৃত্বা অত্যতিষ্ঠ দশাঙ্গুলম্।।১।।
পদার্থঃ (পুরুষঃ) সমগ্র জগতে পূর্ণ পরমাত্মা (সহস্রশীর্ষা) অনন্ত জ্ঞানবান অথবা তাঁর মধ্যে অসংখ্য প্রাণী অবস্থিত, তিনি (সহস্রাক্ষঃ) সর্বদ্রষ্টা, (সহস্রপাৎ) সর্বত্র গতিবান। (সঃ) তিনি (ভূমিম্) বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডকে (বিশ্বতঃ) সব দিক থেকে (বৃত্বা) ব্যাপ্ত করে (দশাঙ্গুলম্) দশ আঙুল পরিমাণ স্থূল ও সূক্ষ্ম দশভূত যুক্ত জগকেও (অত্যতিষ্ঠৎ) অতিক্রম করে বর্তমান রয়েছেন।
শব্দার্থঃ (সহস্রশীর্ষা) সকল প্রাণীর অসংখ্য মস্তক যাঁর মধ্যে স্থিত [অথবা যিনি সর্বজ্ঞ] (সহস্রাক্ষঃ) সকল প্রাণীর অসংখ্য চক্ষু যাঁর মধ্যে স্থিত [অথবা যিনি সর্বদ্রষ্টা] (সহস্রপাৎ) সকল প্রাণীর অসংখ্য চরণ যাঁর মধ্যে স্থিত [অথবা যিনি সর্বগত অর্থাৎ সর্বত্র উপস্থিত] (সঃ) তিনি (পুরুষঃ) পূর্ণ পরমাত্মা (ভূমিম্) সম্পূর্ণ জগতের (বিশ্বতঃ) সর্বদিকে (বৃত্বা) ব্যাপ্ত হয়ে (দশাঙ্গুলম্) দশাঙ্গুল [অর্থাৎ পঞ্চস্থুলভূত এবং পঞ্চসূক্ষ্মভূত সম্পন্ন জগৎকে] (অত্যতিষ্ঠৎ) উল্লঙ্ঘন করে [অনন্ত অসীমে] স্থিত। [এই সমগ্র জগতের ভিতর এবং বাহিরেও পূর্ণরূপে ব্যাপ্ত হয়ে রয়েছেন] ।।
সরলার্থঃ সকল প্রাণীর অসংখ্য(সহস্র) মস্তক, চক্ষু ও চরণ যাঁর মধ্যে স্থিত অথবা যিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা, সর্বগত— সেই পূর্ণ পরমাত্মা সম্পূর্ণ জগতের সর্বদিকে ব্যাপ্ত হয়ে দশাঙ্গুল অর্থাৎ পঞ্চস্থুলভূত এবং পঞ্চসূক্ষ্মভূত সম্পন্ন জগৎকে অতিক্রম করে অনন্ত অসীমে স্থিত।
ভাবার্থঃ এই মন্ত্রে "পুরুষ" শব্দে বিশেষ্য এবং অপর সমস্ত পদ তাঁরই বিশেষণরূপে বর্ণিত হয়েছে। "পুর অগ্রগমনে, পৄ পালনপূরণয়োঃ ইতি বা ধাতোঃ ‘পুরঃ কুষন্’। উণাদিসূত্র০ ৪।৭৪ ইতি কুষন্ প্রত্যয়ঃ।।" যিনি সমগ্র জগতে পূর্ণভাবে বিদ্যমান আছেন তাঁকেই "পুরুষ" বলা হয়। "পুর" শব্দটি ব্রহ্মাণ্ড এবং শরীর এই উভয়ার্থ বাচক। অতএব যিনি সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে ব্যাপকরূপে এবং প্রাণীগণের শরীরস্থ জীবাত্মার অন্তরে অন্তর্যামীরূপে বিরাজমান আছেন, তাঁকে "পুরুষ" বলা হয়। "সহস্রম্ ইতি বহুনাম্" (নিঘণ্টু ৩।১) অর্থাৎ "সহস্র" শব্দ দ্বারা অসংখ্য বা বহুসংখ্যক বুঝায়। এজন্য যাঁর মধ্যে জগতের সমস্ত প্রাণীর অসংখ্য শির, নেত্র, পদাদি স্থিত রয়েছে অথবা যিনি সর্বজ্ঞ, সর্বদ্রষ্টা এবং সর্বগত, তাঁকে সহস্রশীর্ষা, সহস্রাক্ষ ও সহস্রপাৎ বলা হয়। যেরূপ আকাশের মধ্যে (ব্যাপকতায়) সমস্ত পদার্থ রয়েছে অথচ সেই আকাশ সমস্ত পদার্থ থেকে পৃথক, পরমাত্মাকেও সেইরূপ জানবে। এই মন্ত্রে "দশাঙ্গুল" শব্দ ব্রহ্মাণ্ড এবং হৃদয়বাচী। এক্ষেত্রে অঙ্গুলি শব্দ অঙ্গের অবয়ববাচী। পঞ্চস্থুলভূত (মৃত্তিকা, জল, অগ্নি, বায়ু ও আকাশ) এবং পঞ্চসূক্ষ্মভূত (শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ও গন্ধ)— এই দুই প্রকার ভূতসমূহ মিলিত হয়ে ব্রহ্মাণ্ডের অবয়ব নির্মিত হয়, সেজন্য ব্রহ্মাণ্ডকে "দশাঙ্গুল" বলা হয়েছে। অপরপক্ষে পঞ্চপ্রাণ, মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকার এই নয় প্রকার পদার্থ এবং দশম হৃদয়স্থ জীবাত্মা— এগুলোকেও "দশাঙ্গুল" শব্দের অর্থরূপে গ্রহণ করা যায়। পরমেশ্বর উপরোক্ত দশাঙ্গুল স্থানকে অর্থাৎ সম্পূর্ণ চরাচর জগৎকে উল্লঙ্ঘন করে সর্বত্র স্থিরভাবে বিরাজিত।
পুরুষ সূক্ত



    পুরুষ এবেদং সর্ব্বং যদ ভূতং যচ্চ ভাব্যম।
     উতামৃত্ত্বস্যেশানো যদন্নেনাতিরোহতি।।২।।

সরলার্থঃ যাহা উৎপন্ন হয়েছে যাহা উৎপন্ন হবে এই সবকিছুই পুরুষই [পুরুষাধিষ্ঠিত]।  এবং অমৃতস্বরূপ মোক্ষের  স্বামী যাহা অন্ন দ্বারা  বৃদ্ধি পায় [তাহারও স্বামী]।।২।।

 এতাবানস্য মহিমাতো জ্যায়াংশ্চ পুরুষঃ।
 পাদোস্য বিশ্বা ভূতানি ত্রিপাদস্যামৃতং দিবি।।৩।।

সরলার্থঃ এই জগতের মহান সামর্থ এতই যে,  এবং এই পরমেশ্বর তাহা থেকেও অধিক বড় সমস্ত উৎপন্ন পদার্থ  ইহার এক পাদ [একাংশে স্থিত] ইহার তিন পাদ জ্ঞান প্রকাশস্বরূপ অবিনাশী।। ৩।।

   ত্রিপাদূর্ধ্বং উদৈৎ পুরুষঃ পাদোস্যেহাভবৎ পুনঃ।
    ততো বিষ্বঙ্ ব্যক্রামৎ সাশনানশনে অভি।।৪।।


সরলার্থঃ তিন পাদ বিশিষ্ট অবিনাশী এই পুরুষ সবার উপরে বিরাজমান ইহার এক পাদরূপ জগত পুনরায় এখানে প্রকট হয়েছে এই প্রভূ সর্বত্র ব্যাপক তিনি  ভোজনশীল ও ভোজনরহিত অর্থাৎ চেতন ও অচেতন কে অভিব্যপ্ত করে।

  ততো বিরাডজায়ত বিরাজো অধি পূরুষঃ।
  স জাতো অত্যরিচ্যত পশ্চাদ্ ভুমিমথো পুরঃ।। ৫।।


সরলার্থঃ সেই পরমেশ্বর হতে প্রকাশময় সমষ্টিরূপ ব্রহ্মান্ড উৎপন্ন  হয় বিরাটের উপর অধ্যক্ষরূপে পুরুষই এই পুরুষ উৎপন্ন হয়ে অতিরিক্ত [পৃথক] হয়ে বিরাটের পশ্চাত  ভূমি ইহার অনন্তর অনেক শরীর উৎপন্ন করে।

    যৎ পুরুষেণ হবিষা দেবা যজ্ঞমতন্বত।
   বসন্তোস্যাসীদাজ্যং গ্রীষ্মইধ্বমঃ শরদ্ধবিঃ।।৬।।


সরলার্থঃ যখন বিদ্বান লোক পরমেশ্বর দ্বারা প্রদত্ত  জগৎরচনারূপ সামগ্রী দ্বারা  সৃষ্টি রচনারূপ যজ্ঞকে বিস্তারিত করে তখন  ইহার বসন্ত ঋতু ঘৃত হয় গ্রীষ্ম ঋতু সমিধা এবং শরৎ ঋতু হবি হয়।

   তং যজ্ঞং বর্হিষি প্রৌক্ষন পুরুষং জাতমগ্রতঃ।
   তেন দেবা অযজন্ত সাধ্যা ঋষয়শ্চ যে।।৭।।


সরলার্থঃ সেই  যজ্ঞরূপ পূজনীয় প্রকাশিত  পূর্ণ পরমেশ্বরকে সবার পূর্বে হৃদয়ন্তরিক্ষের মধ্যে অভিষিক্ত করে। সেই পুরুষ দ্বারা [প্রেরিত] বিদ্বান লোক  সাধনকারী  এবং যে ঋষিগন তাহারা সেই পরমেশ্বরকে উপাসনা করে।

   তস্মাদ্যযজ্ঞাৎ সর্বহুতঃ সংভৃতং পৃষদাজ্যম।
   পশুঁস্তাঁশ্চক্রে বায়ব্যানারণ্যা গ্রামশ্চ যে।।৮।।

সরলার্থঃ সেই সর্বপূজ্য পরমেশ্বর হতে দধি, ঘৃত আদি ভোগ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়েছে বায়ু দ্বারা জীবিত পশু  এবং যে জঙ্গলের সিংহ আদি এবং গ্রামের গো, অশ্ব আদি উৎপন্ন হয়েছে।

 তস্মাদ্যজ্ঞাৎ সর্বহুতঃ ঋচ সামানি জজ্ঞিরে।
 ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাদ্যজুস্তস্মাদজায়থ।।৯।।

সরলার্থঃ সেই পূজনীয় পরমেশ্বর হতে  সর্ব পূজিত ঋগবেদ সামবেদ  উৎপন্ন হয়েছে। অথর্ববেদ উৎপন্ন হয়েছে  তাহা হইতে যজুর্বেদ উৎপন্ন হয়েছে।

 তস্মাদশ্বা অজায়ন্ত যে কে চোভয়াদতঃ।
 গাবো হ জজ্ঞিরে তস্মাৎ তস্মাজ্জাতা অজাবয়ঃ।।১০।।

সরলার্থঃ সেই পরমেশ্বর হতে  ঘোড়া এবং যে কোন গাধা আদি দুই চোয়ালে দন্ত বিশিষ্ট জীব উৎপন্ন হয়েছে গাভী তাহা হইতেই  উৎপন্ন হয়েছে সেই পুরুষ হতে ছাগল ভেড়া আদি উৎপন্ন হয়েছে।

   যৎ পুরুষং ব্যদধুঃ কতিধা ব্যকল্পয়ন্।
  মুখং কিমস্য কৌ বাহু কা উরু পাদা উচ্যেতে।।১১।।

সরলার্থঃ যখন সেই পুরুষকে [ঋষিগন] বিশেষরূপে বর্ণনা করেন তখন কি প্রকারে  বিশেষরূপে কল্পনা করেন? এই পুরুষের মুখ কোন টি? বাহু কোনটি? উরু কোনটি? এবং পা কোনটি বলিয়া উক্ত হয়?।। ১১।।

   ব্রাহ্মণোস্য মুখমাসীদ্ বাহূ  রাজন্যঃ কৃতঃ।
   ঊরু তদস্য যদ্বৈশ্যঃ পদ্ভাংশূদ্রো অজায়ত।।১২।।

সরলার্থঃ ব্রাহ্মণ [জ্ঞানী পুরুষ] এই পুরুষের মুখ হয়, ক্ষত্রিয় [পরাক্রমীব্যক্তি] এই পুরুষের বাহু।  যাহা  এই পুরুষের উরু তাহা বৈশ্য [পোষনশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি] এবং পা শূদ্ররূপে [সেবাধর্মী ব্যক্তিরূপে] প্রকট হয়।।।১২


     চন্দ্রমা মনসো জাতশ্চক্ষোঃ সূর্য্যো অজায়ত।
    মুখাদিন্দ্রশ্চাগ্নিশ্চ প্রাণাদ্বায়ুরজায়ত।। ১৩।।


সরলার্থঃ চন্দ্র মন থেকে [মননকারী সামর্থ দ্বারা] উৎপন্ন হয়েছে, নেত্র  থেকে [রূপ দর্শনকারী সামর্থ দ্বারা] সূর্য  উৎপন্ন হয়েছে।  মুখ থেকে [মুখ্য স্বরূপ সামর্থ দ্বারা] ইন্দ্র ও অগ্নি ও প্রাণ থেকে [বায়ুরূপ সামর্থ দ্বারা] বায়ু উৎপন্ন হয়েছে।

  নাভ্যা আসীদন্তরিক্ষংশীর্ষ্ণো দৌঃ সমবর্ত্তত।
  পদ্ভাং ভূমির্দিশঃ শোত্রাৎ তথা লোকাঁঅকল্পয়ন।।১৪।।

সরলার্থঃ  নাভি থেকে [সুক্ষ সামর্থ দ্বারা] অন্তরিক্ষ  হয়, শির থেকে [সর্বোত্তম সামর্থ দ্বারা] দুল্যোক (সমবর্ত্তত) হয়। পা থেকে [পরমানু কারনরূপ সামর্থ দ্বারা] পৃথিবী,  শোত্র থেকে [অবকাশরূপ সামর্থ দ্বারা] দিশা এবং এই প্রকার অন্য লোক কল্পিত হয়।

   সপ্তাস্যান্ পরিধিয়স্ত্রিঃ সপ্ত সমিধঃ কৃতাঃ।
  দেবা যদ্যজ্ঞং তন্বানাঅবধ্নন পুরুষং পশুম্।।১৫।।

সরলার্থঃ বিদ্বান জন যেই যজ্ঞকে বিস্তারিত করে পূর্ণ পরমেশ্বরকে  সর্বদ্রষ্টারূপে ধ্যান সূত্র দ্বারা বাধে। এই যজ্ঞের সাত পরিধি [সমুদ্র, ত্রসরেণু, মেঘমন্ডল,বৃষ্টিজল, বায়ু, ধনন্জয় এবং সুত্রাত্মা] এবং একুশ সমিধা হয় [ মন সহিত একাদশ ইন্দ্রিয়, পঞ্চ তন্মাত্রা এবং পঞ্চভূত]

 যজ্ঞেন যজ্ঞমযজন্ত দেবাস্তানি ধর্ম্মাণি প্রথমান্যাসন্।
 তে হ নাকং মহিমানঃ সচন্ত যত্র পূর্বে সাধ্যাঃ সন্তি দেবাঃ।।১৬।।

সরলার্থঃ যজ্ঞ দ্বারা বিদ্বান জন সেই পুরুষ কে উপসনা করে ঐ সব ধর্মের সামর্থ প্রথমেই বিদ্যমান থাকে।  ঐ মহান সামর্থবান সেই আনন্দময় পরমেশ্বরকে প্রাপ্ত হয় যাহার মধ্যে পূর্বে,জ্ঞান দ্বারা পূর্ণ সাধনাশীল বিদ্বান জন নিত্য বিরাজ করে।

     ।। ইতি ১০ মন্ডলে ৯০ সুক্ত।।

No comments:

Post a Comment

ধন্যবাদ

বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

সূর্য কি স্থির না গতিশীল?

  সূর্য ও পৃথিবী সম্পর্কে জানুন ... সূর্যের অবস্থান আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২৫,০০০ - ২৮,০০০ আলোকবর্ষ দূরে, এবং এটি অবিরত ছায...

Post Top Ad

ধন্যবাদ